নীলফামারীর সৈয়দপুরে জান্নাতুল (২৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টায় সৈয়দপুরের শহরের নয়াবাজার আদর্শ বালিকা মহাবিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জান্নাতুল শহরের পুরাতন বাবুপাড়া দারুল উলুম মাদরাসা ধোপামাঠ এলাকার মো: তাহেরের ছেলে জাফর ইকবাল চাঁনের তৃতীয় স্ত্রী এবং হাতিখানা মৌয়াগাছ এলাকার মো: ফারুকের বড় মেয়ে।
ওই গৃহবধূর মা মাকসুদা বেগম বলেন, ‘চাঁন একজন লম্পট। সে চোরাই পিকআপসহ বিভিন্ন গাড়ি কেনাবেচা করে। সে ইতোপূর্বে তার খালাত বোনকে বিয়ের পর কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। যৌতুকের দাবিতে পুরো পরিবার মিলে সেই মেয়ের ওপর নির্যাতন করে। পরপর সে আমার ভাই দেলোয়ার তালুকদারের মেয়েকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে পালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। এতে প্রথম স্ত্রী বাধ্য হয়ে নিজেই তালাক দিয়ে চলে যায়। এই অবস্থাতেই সে আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে পালায়। এভাবে সে একের পর এক মেয়ের জীবন নষ্ট করে চলেছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর তিনটা সন্তান। তাকে নয়াবাজার এলাকায় এজাজ লবন ওয়ালার বাসায় ভাড়া রুমে রানীর মতো রাখতো। আর আমার মেয়ে দু’বছর ধরে শ্বশুর বাড়িতে কাজের মেয়ের মতো খাটছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য পুরো পরিবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে চলেছে। গত বুধবার সবাই মিলে জান্নাতুলকে মারধর করে। এরপর ওই ভাড়া বাসায় নিয়ে রাখা হয়েছে। আর শনিবার তার লাশ পেলাম।’
জান্নাতুলের বাবা ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করেছে। মেরে ফেলে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে মধ্যরাতে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার পর আমাদের খবর দিয়েছে। আত্মহত্যা করে থাকলেও তাকে টর্চার করাসহ অবৈধ কাজে বাধ্য করতে চাওয়ায় সে ওই পথ বেছে নিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘চাঁন অবৈধ টাকার গরমে আরো অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে। এর সাথে তার মা, বাবা ও ভাই সুজন জড়িত। তারা মামলা না করতে দুই লাখ টাকার লোভ দেখাচ্ছে। আমার বড় ভাই (চাঁনের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা) পিডিপি কর্মচারি মান্নান ইলেকট্রেশিয়ানের মাধ্যমে ওই টাকার প্রস্তাব দিয়েছে।’
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মফিজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ভেতর থেকে লাগানো দরজা ভেঙে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ী আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। গলায় ফাঁসের দাগ থাকলেও শারীরিক নির্যাতনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়া হয়ে থাকতে পারে। তাই পরিবারের দাবি অনুযায়ী লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বামীকে জিজ্ঞেসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।



