এক সময়ের তাগড়া যুবক সুপরিচিত ফুটবলার এবং পেশায় একজন শ্যালো মেশিনের মেকার মালেক ভাই হিসেবে পরিচিত। তিনি খেলাধুলার পাশাপাশি পরিবারের সচ্ছলতায় উপার্জন হিসেবে শ্যালো মেশিনের মেকারি কাজ করতেন। বিনা পুঁজিতে এই কাজে তার সংসার জীবন ভালোই চলছিল।
প্রায় ৩০ বছর আগে রাস্তায় চলতে গিয়ে হঠাৎ পায়ে হোঁচট লেগে আঙ্গুল কেটে আঘাত প্রাপ্ত হন তিনি। এরপর থেকে তার জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। হয়ে যায় সব কিছু লণ্ডভণ্ড। ভুল চিকিৎসায় তিনি দু‘পা হারিয়ে এখন হুইল চেয়ারে চলাফেরার জীবন। সহায় সম্পদ যা ছিল সব শেষ করে এখন তিনি নিঃস্ব।
মালেকের (৬০) ঠিকানা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের ঝালখুর গ্রামে। বাবার নাম মরহুম আব্দুল কাফি। তার পরিবারে স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
আব্দুল মালেক সাংবাদিকদের জানান, তার বাম পায়ের আঙ্গুল কেটে গেলে তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করান। এরপর বগুড়ায় হাসপাতাল ও বিভিন্ন নামিদামি ক্লিনিকে চলে তার চিকিৎসা। চিকিৎসক দু‘দফায় তার ডান পায়ের সব নক গোরালী পর্যন্ত কেটে ফেলে তবুও পায়ের ঘা শুকায়নি।
সেন্ডেলে চলাফেরার আঘাতে বাম পায়েও ঘা দেখা দেয়। ফলে তিনি বগুড়া থেকে রংপুর মেডিক্যালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে থাকেন। রংপুর মেডিক্যালে তার বাম পায়ের সব নক গোড়ালি পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়। এরপর তিনি ঢাকা পিজি হাসপাতালেও চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তিনি তার জায়গা জমি বিক্রি করে দু‘পায়ের সুচিকিৎসার প্রাণান্তর চেষ্টা চলতে থাকে। কিন্তু চিকিৎসার কোনোই উন্নতি নেই।
পরিবারের পরামর্শে আব্দুল মালেক এবার বসতবাড়ির সামান্য জায়গা বিক্রি করে ভারতের কলকাতা পেরনর্স হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে ডা: প্রদীপ সেনের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
আব্দুল মালেক জানান, ভারতে ২০ দিনে সোয়া লাখ টাকা চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন তার পা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হবে। মালেক পবিত্র এই রমজান মাসে তার দু‘পায়ের সুচিকিৎসার জন্য প্রবাসী ভাই-বোন ও সমাজের দানশীল বিত্তবান দেশবাসীর কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪২১৮০১০০১১৭৬৬ রূপালী ব্যাংক কিচক হাট শাখা বগুড়া অথবা নিজ মোবাইল নম্বর ০১৭২৮৫৭০৮৬৫ (বিকাশ)।



