খাগড়াছড়ির কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ১৪৪ ধারা জারি করায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ইফতার মাহফিলের স্থান পরিবর্তন করে খাগড়াছড়ি শহরের কলাবাগানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে কলাবাগানে নতুন করে চলছে মঞ্চ তৈরির কাজ। অপর দিকে বাস টার্মিনাল এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।

জেলা শহরের চারটি স্থানের জন্য আবেদন করেও অনুমতি না পেয়ে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ব্যক্তি মালিকানা জায়গায় ইফতার মাহফিলের প্রস্তুতি নেয় বিএনপি। তার পাশেই জাতীয় শ্রমিক লীগ পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, এতে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও তার আশপাশ এলাকায় শনিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

শনিবার ভোরে জেলা বিএনপি স্থান পরিবর্তন করে শহরের কলাবাগান এলাকায় ইফতার মাহফিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক নিপু আহমেদ।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিভাগীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ইফতার কর্মসূচির জন্য স্থান বরাদ্দ পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে জেলা বিএনপি শহরের চারটি স্থানে অনুমতি চাইলেও প্রশাসনের অনুমতি মিলেনি। বরং জেলা বিএনপির আবেদনের ছয় দিন পর বিএনপির আবেদিত খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পৌর আওয়ামী লীগ পাল্টা শান্তি সমাবেশের কথা বলে আবেদন করলে তাদের অনুমতি দেয়া হয়। এ অবস্থায় জেলা বিএনপির পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ব্যক্তি মালিকাধীন জমি বেছে নেয়। কিন্তু শুক্রবার বিকেলে বিএনপির ইফতার মাহফিলস্থলে জাতীয় শ্রমিক লীগ খাগড়াছড়ি পৌর শাখার উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ ও ইফতার বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মর্মে সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শনিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে খাগড়াছড়িতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ইফতার মাহফিল হবে। এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ।’

তিনি সরকারি দলের বানচালের ষড়যন্ত্রের কারণে বিএনপির অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন।