টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে গৃহবধূকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিবাগত রাত ১টায় ডুবাইল ইউনিয়নের কোপাখী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূর নাম সুমিতা বেগম। তিনি মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা গ্রামের মরহুম সমেজ উদ্দিনের মেয়ে। ঘাতক স্বামীর নাম মিনজু মিয়া। তিনি উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের কোপাখী গ্রামের মরহুম আজগর মিয়ার ছেলে। এ দম্পতির এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।

জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে মিনজু মিয়ার সাথে সুমিতা বেগমের বিয়ে হয়। সম্প্রতি মিনজু মিয়া স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে মিরাছ আনার জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে তাদের মাঝে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। পরে তা শারীরিক নির্যাতনে গড়ায়। কয়েক দিন আগে সুমিতাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন মিনজু। সুমিতা তখন বোনের বাড়ি মির্জাপুর মহেড়া গ্রামে আশ্রয় নেন। শনিবার কৌশলে ভগ্নিপতি আমির হোসেনের মাধ্যমে মোবাইলে স্ত্রীকে বাড়ি আসতে বলেন মিনজু। তখন সুমিতা তার বোন ববিতা ও মা হালিমাকে নিয়ে শনিবার স্বামীর বাড়িতে আসেন। পরে রাত ১টার দিকে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিনজু মিয়া গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত রড দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটাতে থাকেন সুমিতাকে। এতে ঘটনাস্থলেই সুমিতার মৃত্যু হয়। বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে মা হালিমা ও বোন ববিতা আহত হন।

সুমিতার মা হালিমা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে আমার সামনেই পিটিয়ে হত্যা করা হলো। আমি কিছুই করতে পারলাম না। আমার মেয়ের আর্তচিৎকারে কেউ এগিয়েও এলো না। মিরাছের সামান্য টাকার জন্য মিনজু আমাদের তিনজনকেই হত্যা করতে চেয়েছিল।

দেলদুয়ার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নাছির উদ্দিন মৃধা বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘাতক স্বামীকে আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।