নাম নিলুফা আক্তার। বয়স পঞ্চাশের ওপরে। এসএসসি পরীক্ষার্থী এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। দুই মেয়ে থাকলেও এক মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সে থাকে স্বামীর বাড়িতে। পার্শবর্তী গাজীপুর জেলার কাপসিয়া উপজেলার ঘাগুটিয়ে গ্রামে তার বাড়ি হলেও দীর্ঘদিন ধরে থাকেন তিনি মনোহরদী পৌরসভা এলাকায়। মনোহরদী পৌরসভাস্থ বাজারের বিভিন্ন দোকানে টুকটাক কাজ করেন তিনি। দোকানের টুকটাক কাজ করে দিলে যে টাকা পান তা দিয়েই পরিতৃপ্ত হয়ে সংসার চালান তিনি।
কাজের ফাঁকে সপ্তাহে দুই-তিন দিন বিভিন্ন দোকানের পরিত্যক্ত ড্রাম থেকে তেল সংগ্রহ করেন। ড্রাম থেকে যে পরিমাণ তেল তিনি পান তা দিয়েই চলে তার রান্নার কাজ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই সামান্য তেল সংগ্রহ করাও পরিবারের জন্য কম কিছু নয় বলে মনে করেন নিলুফা।
চৈত্র-বৈশাখ মাসে রোজা। তার ওপর আবার প্রচণ্ড তাপদাহ। প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে রোজারত অবস্থায় নিলুফার দেখা মেলে মনোহরদী বাজারের দুলাল সাহার গুদামের বাইরে। দোকানের বাইরে পড়ে থাকা ক’টি খালি তেলের ড্রাম। সেটি কাত করে স্পঞ্জ দিয়ে বাটিতে একমনে তেল নিঙড়ে তুলছিলেন নীলুফা। আর স্পঞ্জে চাপ দিয়ে সেই তেল রাখছেন সাথে থাকা একটি পাস্টিকের বাটিতে।
মাথার ওপরে তেজদীপ্ত সূর্য। রোদের তাপে পিচঢালা পথ উত্তপ্ত। সে উত্তপ্ত পরিবেশে ঘাম বেয়ে পড়ছে মাথা থেকে। সে দিকে নিলুফার নেই খেয়াল। একমনে তিনি তার কাজ করে যাচ্ছেন। ময়লায় একাকার এ তেল দিয়ে কী হবে? এমন প্রশ্ন শুনে মুচকি হাসলেন নিলুফা। উত্তরে জানালেন, এখান থেকে সংগৃহীত তেল দিয়েই চলে তার দৈনন্দিন রান্নার কাজ। তিনি আরো জানান, সয়াবিন, পাম যখন যা মেলে তাই তুলে নেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাজারের কোনো দোকানদাররা কিছুই বলেন না তাকে। বাজারে টুকটাক কাজ করা ছাড়াও বাড়িতে ছোট্ট একটি গরু লালনপালন করেন তিনি।
মেয়ে বড় হয়েছে। স্কুলে লেখা পড়া করে। কদিন পরে তাকে বিয়ে দিতে হবে। বিয়ে দিতে হলেওতো কম করে হলেও কিছু টাকার প্রয়োজন। সে টাকার জন্যই তিনি ছোট গরু পালেন বাড়িতে।
বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী দুলাল সাহা জানান, অনেক দিন ধরে এই মহিলা এভাবে তেল সংগ্রহ করেন পরিবারের জন্য।