অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মম্পা রানী ওরফে খুকু মনি (২৬) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। তবে তার সদ্য ভুমিষ্ঠ সন্তানটি তার মা-বাবার হেফাজতে সুস্থ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে পাটগ্রাম স্কয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এক লাখ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।
স্বজনরা জানায়, পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ৫নং ওয়ার্ডের হিতেষ চন্দ্র রায়ের মেয়ে মম্পার প্রসব ব্যথা শুরু হলে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পাটগ্রাম পৌর শহরের দহগ্রাম রোডে স্কয়ার হসপিটালে ভর্তি করার পরই কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই মম্পার অপারেশন করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে রংপুর হসপিটালে পাঠানো হয়। কিন্তু রংপুর নিয়ে যাওয়ার পথেই মম্পা মারা যান।
মম্পার বাবা হিতেষ চন্দ্র জানান, তিন বছর আগে ডিমলা উপজেলার ডাঙ্গারহাট গ্রামের তাপস রায়ের সাথে মম্পার বিয়ে হয়। মম্পা লালমনিরহাট সরকারি কলেজে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পরে। এ সময় তিনি তার মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন।
জোংড়া ইউপি সদস্য বিজয় কুমার বলেন, খবর পেয়ে আমরা ওই হসপিটালে গিয়ে দেখি কেউ নেই, পালিয়েছে। একটি তাজা প্রাণ ভুল চিকিৎসায় যেভাবে ঝরে গেল তা খুবই দুঃখজনক।
স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, অপারেশনের পূর্বে আমরা স্কয়ার হসপিটালের দায়িত্বশীলদের রোগীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য বলেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা না শুনে সিজার করেন।
এ বিষয়ে ডা: সামিরা বলেন, মম্পার সিজার আমি করিনি। তবে আমি এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।
পাটগ্রাম সরকারী হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা ধারণা করছি মম্পার অপারেশন কোনো নন টেকনিশিয়ান এবং নন প্র্যাকটিশনার কাউকে দিয়ে করানো হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাই জেশনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে রেজিস্ট্রেশন (স্কয়ার) বাতিলের আবেদন করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এ হসপিটালে এর আগেও বহুবার এমন ঘটনা ঘটিয়ে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে স্কয়ার হসপিটালের পরিচালক বাবুল হোসেন ও এমডি আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও কেউ রিসিভ করেননি।



