নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদ। সাম্প্রতিক সময়ে নদটিতে তৈরি একটি বাঁশের সাঁকোর কারণে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত তৈরি হয়েছে কচুরিপানার জটলা। যার ফলে নদের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের যেমন পড়তে হয়েছে দুর্ভোগে, তেমনি বিপাকে পড়েছে স্থানীয় জেলেরা। ঘন কচুরিপানার জন্য জেলেরা ধরতে পারছেন না মাছ। আর এলাকাবাসী করতে পারছে না নদের পানিতে স্বাভাবিক কাজকর্ম।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় মরতে বসা আড়িয়াল খাঁ নদ খনন করার পর বেড়েছে পানির প্রবাহ। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছিল মাছের উৎপাদন। এতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই কাটছিল স্থানীয় জেলেদের জীবন। নদপাড়ের লোকেরা করতে পারছিল স্বাভাবিক কাজকর্ম; কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ঘন কচুরিপানা হানা দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন নদের পাড়ের জেলেসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
মনোহরদী উপজেলার রামপুর গ্রামের জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, গত নভেম্বরের দিকে আড়িয়াল খাঁ নদে ড্রেনেরঘাট ব্রিজের নিচে পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন স্থানীয়রা। বাঁশের সাঁকোর কারণে বৈরাগীর চর এলাকা থেকে শুরু করে ড্রেনেরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঘন কচুরিপানা আটকে যায়। যার কারণে তারা নদে জাল ফেলাসহ কোনো উপায়েই মাছ ধরতে পারছে না। এ ছাড়া নদের পাড়ের মানুষজন সাধারণ কাজের জন্য নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে রামপুর গ্রামের জেলে রিটন বর্মণ জানান, বাঁশের সাঁকোটি উঠিয়ে দিলে কচুরিপানা পানিতে ভেসে অন্যত্র চলে গেলে আমাদের মাছ ধরা সহজ হবে।
নদে সাঁকো তৈরির বিষয়ে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম জানান, নদপারের কৃষিজমিতে কাজের জন্য যোগাযোগের স্বার্থে তারা এই সাঁকো তৈরি করেছেন। এতে নদে কচুরিপানা জমা হওয়ার কথা নয়।
তবে সাঁকোর কারণে যদি বড় কোনো সমস্যা হয় তাহলে আমরা সাঁকো তুলে নিতে প্রস্তুত আছি।
এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলার সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দীন জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখবেন তিনি। সত্যি হলে প্রশাসনের সহায়তায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।