ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বরজ থেকে পান চুরির সন্দেহে গণপিটুনীতে আহত সুর্য্য মাল (৫৬) নামে এক ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ মে) ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে বুধবার সকালে উপজেলা নিয়ামত ইউনিয়নের শালিখা গ্রামে পান চুরির সন্দেহে আটক করে স্থানীয়রা। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
নিহত সুর্য্য মাল সিরাজগঞ্জ এনায়েতপুর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে রামচন্দ্র মালের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, এলাকায় প্রায়ই পান চুরি হতো। ঘটনার দিন সকালে স্থানীয় পানচাষি আব্দুর রহিম তার বরজে নিহত ব্যক্তিকে পান তুলতে দেখেন। এ সময় পানচাষি আব্দুর রহিমকে দেখে দৌড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। বরজ মালিক আব্দুর রহিম চোর চোর করে চিৎকার দিলে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে মারপিট করে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারি মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার রেজোয়ান আহমেদ জানান, নিহত ব্যক্তিকে অসুস্থ অবস্থায় বুধবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার চিকিৎসা চলছিল কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি মারা যান।
কালীগঞ্জ থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আব্দুর রহিম মোল্লা জানান, খবর পেয়ে ওসি (তদন্ত) ও একজন এসআই হাসপাতালে যান। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ঝিনাইদহ থেকে সিআইডির একটি টিম মৃত ব্যক্তির আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে তার নাম পরিচয় সনাক্ত করেছেন।
তিনি আরো জানান, নিহত সুর্য্য মাল এক জন মানসিক রোগী ছিলেন। গত ১০-১২ দিন আগে সিরাজগঞ্জ এনায়েতপুর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে থেকে পরিবারের কাউকে না বলে বাড়ি থেকে বের হন। তার পরিবারের সবাই মানসিক রোগী। সনাক্তের পর তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়েছে। তারা এলে লাশ হস্তাান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।



