নওগাঁর মান্দা উপজেলায় প্রধান শিক্ষক এম রেজাউল হকের মৃত্যুর খবর জানাজানির পর তড়িঘড়ি করে দেয়া হলো যোগদানপত্র। অনেকটা নিজেদের গাঁ বাঁচাতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মৃত্যুর দিন যোগদানপত্র পৌঁছে দেন। এ ঘটনায় ওই পরিবার ও স্থানীয় শিক্ষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা।
অভিযোগে জানা গেছে, হার্টের অসুখ নিয়ে ৬ মাসের ছুটিতে ছিলেন উপজেলার আলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম রেজাউল হক। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি চাকরিতে যোগদান করেন। এরপর কাগজপত্র নিয়ে দিনের পর দিন ধরনা দিলেও উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে দুই মাসেও তার বিল-বেতন ও যোগদানের অনুমোদন দেয়া হয়নি। দীর্ঘ ৮ মাস ধরে বিল-বেতন না থাকায় চরম অর্থ সঙ্কটে ছিলেন এ শিক্ষক। ঈদুল ফিতরেও বেতন-বোনাস উত্তোলন করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রচণ্ড মানসিক চাপে গত শনিবার তার হার্টঅ্যাটাক হলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ৩০ এপ্রিল বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
শিক্ষক রেজাউলের মৃত সংবাদ জানাজানি হলে ওইদিন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দীক মো: ইউসুফ রেজা তার যোগদানপত্রে স্বাক্ষর করেন। একই দিন তা পাঠিয়ে দেয়া হয় উপজেলা শিক্ষা অফিসে।
শিক্ষক রেজাউল উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের বিলকরিল্যা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১০ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তার বাবা মৃত বসরতুল্যা প্রামাণিক ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এই শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে এমন আচরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষক রেজাউলের স্ত্রী পান্না খাতুন অভিযোগ করে জানান, বেতন-ভাতার জন্য স্বামী রেজাউল উপজেলা শিক্ষা অফিসে দিনের পর দিন ধরনা দিলেও শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার সামসুজ্জামান বিভিন্ন অজুহাতে তাকে হয়রানি করেন। এ ঈদে বেতন-বোনাস তুলতে না পারায় চরম অর্থ সঙ্কটে দুই শিশু সন্তান নিয়ে ঈদের উৎসব পালন করতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার সামসুজ্জামান জানান, শিক্ষক রেজাউল হককে হয়রানি করা হয়নি। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও ছুটির আবেদন যথাযথ ছিল না। পরে সঠিকভাবে কাগজপত্র উপস্থাপন করায় তা অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছিল। শিক্ষা কর্মকর্তা আরো বলেন, গত রোববার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার ছুটি মঞ্জুর করে চাকরিতে যোগদানের অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর করেন।