গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শিশুছেলে রাকিব মোল্লাকে (৭) বাঁচাতে গিয়ে গৃহবধূ সালেহা বেগম (৩০) আহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ মে) বিকেলে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ঘাঘর কান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ওই নারী একই এলাকার খলিল মোল্লার স্ত্রী। আর হামলাকারী হলেন প্রতিবেশী সালাম গাজীর ছেলে বখাটে শাহিদুল গাজী (২০)।

আহত গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য কোটালীপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ছালেহা বেগমকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান ।

এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে কোটালীপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে যানা যায়, শিশু রাকিব বন্ধুদের সঙ্গবদ্ধভাবে শাহিদুল গাজীদের জামরুল গাছে ঢিল ছোড়ার জেরে শিশুটিকে মারপিট করে পুকুরের পানিতে ছুড়ে ফেলে শাহিদুল। খরব পেয়ে মা বাঁচাতে এলে তাকেও গালাগাল করে বেধড়ক মারপিট করে দাংগাবাজ শাহিদুল।

মারপিটের শিকার শিশু রাকিবুল সাংবাদিকদের বলে, শাহিদুল আমাকে মারপিট করে গলা চেপে ধরে ফিক্কা মেরে পানিতে ফেলে চুবাতে থাকে, আমি উঠতে চাইলে বাধা দেয়।

মা সালেহা বেগম জানান, প্রতিবেশীর কাছে খবর পেয়ে আমি গিয়ে দেখি রাকিব পানির মধ্যে। শাহিদুল উঠতে দেয় না। ঘটনা জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দিয়ে আমাকেও মারপিট করে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

প্রতিবেশী বিলকিস বেগম, নাদিরা বেগম, নীলা বেগম ও সাদিয়া বেগমসহ একাধিক নারী জানান, অবুঝ শিশু জামরুল গাছে ঢিল ছোড়ার কারণে মা ও ছেলেকে অন্যায়ভাবে মারপিট করে শাহিদুল। এখন আমাদেরকে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দিবে না বলে হুমকি দেয়।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত শাহিদুল গাজীর বাড়ি গিয়ে তাকে না পেলেও তার ভাই অহিদুল গাজী মোবাইল ধরিয়ে দিলে শহিদুল গাজী বলেন, সালেহা থানায় অভিযোগ করেছে, সাংবাদিকদের জানিয়েছে, দেখি কতদূর কি করতে পারে।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার এএসআই হুমায়ুন কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলছে। শিশুর মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।