গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শিশুপুত্র রাকিব মোল্লাকে (৭) বাঁচাতে গিয়ে প্রতিবেশী সালাম গাজীর ছেলে বখাটে শাহিদুল গাজীর (২০) হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন এলাকার খলিল মোল্লার স্ত্রী গৃহবধূ সালেহা বেগম (৩০)। গত শনিবার বিকেলে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড ঘাঘরকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য কোটালীপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সালেহা বেগমকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদি হয়ে তিনজনকে বিবাদি করে কোটালীপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সরেজমিন জানা যায়, শিশু রাকিব বন্ধুদের সঙ্ঘবদ্ধভাবে শাহিদুল গাজীদের জামরুল গাছে ঢিল ছোড়ে। এ ঘটনায় শিশুটিকে মারধর করে পুকুরের পানিতে ছুড়ে ফেলে শাহিদুল। খরব পেয়ে মা বাঁচাতে এলে তাকেও গালাগাল করে বেধড়ক মারধর করে শাহিদুল। মারধরের শিকার শিশু রাকিবুল সাংবাদিকদের বলে, শাহিদুল আমাকে মারধর করে গলা চেপে ধরে পানিতে ছুড়ে ফেলে চুবাতে থাকে, আমি উঠতে চাইলে বাধা দেয়।
মা সালেহা বেগম বলেন, প্রতিবেশীর কাছে খবর পেয়ে আমি গিয়ে দেখি রাকিব পানির মধ্যে, শাহিদুল উঠতে দেয় না। ঘটনা জানতে চাইলে গালিগালাজ দিয়ে আমাকেও মারধর করে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
প্রতিবেশী বিলকিস বেগম, নাদিরা বেগম, নীলা বেগম, সাদিয়া বেগমসহ বেশ কয়েকজন মহিলা জানান, অবুঝ শিশু জামরুল গাছে ঢিল ছোড়ার কারণে মা ও ছেলেকে অন্যায়ভাবে মারধর করেছে শাহিদুল। এখন রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দিবে না বলে হুমকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত শাহিদুল গাজীর বাড়ি গিয়ে তাকে না পেলেও তার ভাই অহিদুল গাজী মোবাইল ধরিয়ে দিলে শাহিদুল গাজী বলেন, ‘সালেহা থানায় অভিযোগ করেছে, সাংবাদিকদের জানিয়েছে, দেখি কতদূর কি করতে পারে।’
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার এএসআই হুমায়ুন কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। বাদি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।