রংপুরের মিঠাপুকুরে প্রধান শিক্ষকের গাফলতিতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলেন না মেহেদি হাসান নামে এক শিক্ষার্থী।
মেহেদি উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। তিনি রূপসী ফতেপুর গ্রামের দিনমজুর মোক্তারুর রহমানের ছেলে।
এসএসসি পরীক্ষার আগের দিন শনিবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হককে স্থানীয়রা পরীক্ষার প্রবেশপত্রের দাবিতে অবরুদ্ধ করে রাখে। পর দিন রোববার রাণীপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে অভিভাবক ও স্থানীয়দের সাথে প্রধান শিক্ষকের বাগবিতণ্ডা হয়।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবক।
জানা যায়, মেহেদি এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য দুই হাজার ৮০০ টাকা প্রদান করেন প্রধান শিক্ষকের কাছে। এছাড়াও বোর্ডে যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়ের অন্য পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র এলেও আসেনি মেহেদী হাসানের। প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রবেশপত্র চাইলে তিনি ‘আজ’, ‘কাল’, ‘চলে আসবে’ বলে টাল-বাহানা করতেন। পরীক্ষার আগের দিন হলে প্রবেশের আগে প্রবেশপত্র পেয়ে যাবে বলে মেহেদিকে আশ্বাস দেন ওই শিক্ষক। পরে পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যায় মেহেদি জানতে পারেন তার ফরম পূরণ করাই হয়নি।
শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করেছি। প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রবেশপত্র চাইলে তিনি আজ-কাল চলে আসবে বলে টাল-বাহানা করেন। পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যায় তিনি আমাকে ফোন করে বলেন যে আমার ফরম পূরণ হয়নি। এ জন্য প্রবেশপত্র আসেনি। আমি পরীক্ষা দিতে পারব না।’
মেহেদি হাসানের বাবা মোক্তারুর রহমান বলেন, ‘১৬ বছর ধরে দিনমজুরি করে আমার ছেলের পড়ালেখার খরচ চালাচ্ছি। ফরম ফিলাপের টাকা ছাড়াও বোর্ডে যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের ভুলে আমার ছেলে পরীক্ষা পারেনি, এর দায় তাকেই নিতে হবে।’
রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হক বলেন, ‘মেহেদি হাসানের ফরম ফিলাপ করতে গিয়ে ভুল হয়েছে। তার সাথে কথা বলে আগামীতে পরীক্ষা দেয়ার জন্য বলা হয়। একপর্যায়ে সে এলাকাবাসীকে নিয়ে স্কুলে এসে হট্টোগোল শুরু করে। সন্ধ্যা থেকে অনেক রাত পর্যন্ত তারা স্কুলে অবস্থান করে। তারা রোববার রাণীপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে আবারো আমার সাথে খুব খারাপ আচরণ করে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব) রুহুল আমিন বলেন, ‘বিষয়টি মৌখিক জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’



