নীল কমল রবি দাস একজন কারিগর। জুতার কারিগর। তবে তিনি পরিচিত জুতার ডাক্তার হিসেবে। নিজের চেম্বারে ডাক্তার যেমন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে রোগী দেখেন, চিকিৎসা দেন, ঠিক সেভাবেই টাঙ্গাইলের নাগরপুরের নীল কমল প্রতিদিন নিয়ম করে অসংখ্য জুতার সমস্যা দেখেন। তার বাড়ি উপজেলার পাকুটিয়া বাজার এলাকায়। নীল কমলের কাছে নিয়মিত জুতার চিকিৎসা নেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। ৭৩ বছর বয়সী নীল কমল ৬০টি বছর পার করেছেন বাপ-দাদার এ পেশায়। স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে চলছে তার জীবন সংসার। মেয়েরা বিয়ে করে স্বামীর বাড়ি চলে গেছে। আর একমাত্র ছেলে এবার মাস্টার্স পরীক্ষা দেবে।
নীল কমল সপ্তাহজুড়ে নাগরপুরসহ আশপাশের চারটি হাটে যান। আর শুক্রবারে নিজের এলাকায় দোকান নিয়ে বসেন। জুতার ডাক্তার হিসেবে নীল কমলের সুনাম পৌঁছে গেছে নাগরপুরসহ আশপাশের সব উপজেলায়।
নীল কমল জানান, বর্তমানে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তা ছাড়া এখন আগের মতো মানুষ ছেঁড়া জুতা সেলাই করতে চায় না।
জুতা সেলাই করতে আসা কলেজছাত্র আফজাল হোসেন বলেন, তিনি (নীল কমল) দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ করছেন। তার কাজের হাত খুব পাকা।
স্থানীয় পাকুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নীল কমল দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় জড়িত। তাকে বয়স্কভাতা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাকে বিভিন্ন সময় নানা রকম প্রণোদনা দেয়া হয়।