রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খুচরা বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, আদা ও কাঁচা মরিচের দাম আরো বেড়েছে। পেঁয়াজ কেজিতে ১০ থেকে ১৫, আদা ৩০ থেকে ৪০ ও কাঁচা মরিচ ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম ডজনে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।
সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কমেছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম।
মঙ্গলবার উপজেলার শুকুরের হাট, বালুয়াবন্দর, জায়গীর হাট, ছড়ান, বুজরুক সন্তোষপুর (মরাহাটি) হাট বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বাড়ছে। এর প্রভাবে দাম বাড়ছে।
আমদানিকারকরা বলছেন, বাজার স্বাভাবিক রাখতে আমদানির বিকল্প নেই। পেঁয়াজ আমদানি না করা গেলে বাজার আরো ঊর্ধ্বমুখী হবে। কারণ বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। ঋণপত্র খোলায় (এলসি) জটিলতার কারণে চাহিদামতো আদা ও রসুন আমদানি করতে পারছেন না তারা।
দেশে কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে গত ১৬ মার্চ থেকে হিলিসহ দেশের সব বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ আছে। রংপুর, পাবনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পেঁয়াজ দিয়ে চাহিদা মেটানো হচ্ছে।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরায় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। এক মাস আগেও উপজেলার হাট বাজারগুলোতে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দাম তেমন পরিবর্তন না হলেও আদার দাম আরো বেড়েছে। রসুনের (আমদানি ও দেশি) কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। আদা কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। আমদানি আদা দেশি বলে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। চায়না আদা (বড় আকারের) কেজি ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজ-আদার দাম বাড়ার বিষয়ে বুজরুক সন্তোষপুর (মরাহাটি) হাটের কাঁচাবাজারের পেঁয়াজ-রসুন ব্যবসায়ী ফুলু মিয়া বলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে, তাই আমরা বেশি দামে বিক্রি করছি।’
শঠিবাড়ী হাটের মেসার্স ভ্যারাইটিস স্টোরের ব্যবসায়ী লাল মিয়া বলেন, ‘আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বাড়ছে। এ কারণে দাম বেড়ে গেছে। ভারতের পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত এই দাম কমার সুযোগ নেই বরং বাড়তে পারে।’
শঠিবাড়ী হাটের কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইব্রহিম বলেন, ‘বাজারে মিয়ানমারের আদা পাইকারিতে ১৭০ থেকে ২০০ টাকায় এবং ভিয়েতনামের আদা ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের আগেও এই আদা বিক্রি হয়েছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। এই মাসের শুরুতে দাম বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় উপজেলার হাট বাজারগুলোতে দাম বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ মানভেদে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ বেড়ে ১৬০ থেকে ২০০ শির ভাগ সবজি কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ৭০ টাকা, শসা (দেশি) ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, করলা থেকে ৯০ টাকা, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা এবং চাল কুমড়া প্রতিটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।



