ভৈরবে মসজিদের নতুন কমিটি গঠন ও ইমাম নিয়োগ নিয়ে দুটি পৃথক ঘটনায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২৬ মে) জুমার নামাজের পর উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ও আগানগর ইউপির নবীপুর এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনা ঘটে।

কালিকাপ্রসাদ এলাকার আহতদের মধ্যে আছেন লতিফ খাঁন (৬২), কবির খাঁ (৫০), ফোরখান খাঁ (৩৬), আবু হানিফ (৩৮), মো: আলী (৩৫), বাতেন মিয়া (৫৫), মোরশেদ খাঁন (৩৭), রুবেল খাঁ (৩৪), সোহেল (১৮), আজম খাঁ (৩৮) ও জিসান (১৩)।

নবীপুর এলাকার আহতদের মধ্যে আছেন মুক্তার (২৫), অহিদ (৩১), সেলিম (২০), ওয়াহেদ (৪৫), মুতি (২৭), স্বপ্না বেগম (২২), ফুল মিয়া (২৮), মোজাম্মেল (৩০), রাকিব (২৯), পারভিন বেগম (২৩), স্মৃতি (১০) ও নুরজাহান (১৫)।

খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। আহতদের মধ্যে ২৭ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ১০ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। এছাড়া গুরুতর আহত দু’জনকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপ্রসাদ খাঁন বাড়ি জামে মসজিদের নতুন কমিটির সভাপতি নিয়োগ নিয়ে দুপুরে দু’পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এলাকার খাঁ বাড়ি বংশের জায়গায় মসজিদটি অনেক বছর আগে নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সাল থেকে খাঁ বাড়ির বংশের কবির খাঁন এই মসজিদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হলে কয়েকদিন আগে কবির খাঁনকে পুনরায় সভাপতি করে এলাকাবাসী। কিন্ত প্রতিপক্ষ মুরাদ খাঁনসহ কাউছার ও আলাউদ্দিন মিয়া গংরা কবির খাঁনকে পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব দিতে বাধা দেয়। এ নিয়ে আজ দু’পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে উভয়পক্ষের প্রায় ২৫ জন আহত হয়। এ সময় প্রতিপক্ষরা কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের নবীপুরা মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে শুক্রবার দুপুরে দু’পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে প্রায় ১৫ জন আহত হয়। এলাকার নসব আলী ও বাবইরার বাড়ির বংশের লোকজনের মধ্য মারামারি সংঘর্ষ হয়। নসব আলীর বাড়ির লোকজন আ: আওয়াল নামের একজন ইমামকে মসজিদে নিয়োগ দিয়েছে কিন্ত বাবইরার বাড়ির লোকজন তার নিয়োগ মানতে রাজী নয়। এ নিয়ে জুমার নামাজের পর দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

কালিকা প্রসাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: লিটন মিয়া বলেন, মসজিদের কমিটি সভাপতির পদ নিয়ে দুইপক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয় এবং কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

নবীপুর এলাকার বাবইরার বাড়ির আহত সুমন বলেন, মসজিদের ইমাম আওয়ালকে নিয়োগকে কেন্দ্র করেই আজকের ঝগড়া মারামারি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, দুটি ঘটনা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে। কালিকাপ্রসাদে মসজিদের কমিটির নতুন সভাপতি নিয়ে এবং নবীপুরে মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে ঘটনা। খবর পেয়ে পুলিশ দুটি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।