ফরিদপুরের সদরপুরে এলজিইডির নির্মাণাধীন সেতুর মাটি ধসে তিন নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর ও দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।
গত বুধবার উপজেলার জমাদার ডাঙ্গী এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করার সময় স্তূপ করে রাখা মাটি ধসে চাপা পড়ে নিহত হন তিন নির্মাই শ্রমিক। তারা হলেনÑ ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর গ্রামের অন্তর শেখ (২২), কুজুরদিয়া গ্রামের জুলহাস মীর (২০) ও বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর উত্তরকান্দি গ্রামের জাবেদ খাঁ (২৩)। এদের মধ্যে নিহত জুলহাস মীরের আগামী ৭ জুন মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। বিমানের টিকিটও কাটা হয়েছিল তার। অন্য দিকে হতদরিদ্র রিকশাচালক আফজাল শেখের মেঝো ছেলে নিহত অন্তরের গত শুক্রবার বিয়ের দিন ধার্য ছিল।
নিহত অন্তর ও জুলহাসের পরিবার মামলা না করায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই বুধবার রাতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে সদরপুর থানা। রাতেই জানাজা শেষে তাদের লাশ দাফন করা হয়। নিহত জুলহাসের পিতা ইসমাইল মীর কৃষি কাজের পাশাপাশি রিকশাভ্যান চালান। অল্প কিছু জমি আছে তার। তিনি বলেন, ছেলের শরীর কাটা-ছেঁড়া হবে এ জন্য মামলা করিনি। মামলা করলে তো আর কেউ ছেলেরে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। দুর্ঘটনায় নিহত অপর শ্রমিক বাগেরহাট জেলার মোল্লার হাট থানার উদয়পুর গ্রামের আল আমিন খাঁর ছেলে জাবেদ খাঁর লাশও পরিবার নিয়ে গেছে।
এ দিকে গত বৃহস্পতিবার সকালে নির্মাণ কাজে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী সিদ্দিকুর রহমান কৈজুরি ইউনিয়নে নিহত দুই শ্রমিকের বাড়িতে যান। তিনি তাদের সান্ত¡না দেন। তবে তিনি তাদেরকে কোনো ক্ষতিপূরণ কিংবা সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দেননি। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো: ইশতিয়াক আরিফের ভাই ইমতিয়াজ আসিফের মেসার্স আসিফ ইমতিয়াজ ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে ব্রিজটি ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করছিলেন।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার জানান, কারো কোনো ত্রুটি ছিল কি না সেটি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা উচিত। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) লিটন আলীকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।