নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হেতেমদী থেকে শরীফপুর পর্যন্ত ৬০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কের মাঝে রয়ে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি। ওই খুঁটিতে রয়েছে ৩৩ কেভি বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের সংযোগ। গত এপ্রিলের ৫ তারিখ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হলেও সড়ক থেকে সড়ানো হয়নি খুঁটিটি। সড়কের মাঝে এমন বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে রাস্তা চালু হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দ্রুত খুঁটিটি সরানোর দাবি স্থানীয় জনগণের।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সূত্র মতে, ২০১৯ সালের জুন মাসে মনোহরদী উপজেলার ঢাকা-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের হেতেমদী থেকে শরীফপুর বাজার পর্যন্ত বাইপাস সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সাত কিলোমিটার নির্মাণাধীন এ সড়কের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। নির্মাণাধীন সড়কটির কাজ এ বছর শেষ করার কথা রয়েছে, আর সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে সড়কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
স্থানীয় লোকজন জানান, কাজ প্রায় শেষ হলেও সড়কের মাঝে রয়ে গেছে ৩৩ কেভি বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের খুঁটি। সড়কের মাঝের বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তর না করায় সড়ক বিভাগের সমালোচনা করছে এলাকাবাসী। পাশাপাশি দ্রুত খুঁটিটি স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছেন তারা।
তারা আরো বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তর না করে সড়কের যাতায়াত চালু হলে প্রতিনিয়তই নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটবে। ইতোমধ্যে খুঁটির ওপর সঞ্চালন লাইনে রড লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হলেও টনক নড়েনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। আর এতে ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে নির্মাণ পদক্ষেপ।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, কয়েক মাস আগে সড়কের কাজ করার সময় এই খুঁটির ওপর সঞ্চালন লাইনে রড লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। শরীফ হোসেন নামে আর এক ব্যক্তি বলেন, এ ধরনের কাজ দায়িত্বহীনতার পরিচয়।
নরসিংদী সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ না থাকায় আগে বিদ্যুতের খুঁটিটি অপসারণ করা যায়নি। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাথেও আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। দ্রুতই এটি স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ মনোহরদী জোনাল অফিসের ডিজিএম আজিজুর রহমান বলেন, খুঁটিটি সরানোর বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে নতুন নকশা তৈরি করে দিয়েছি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই খুঁটি স্থানান্তর করা হবে।