সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মাটির নিচ দিয়ে পানি সরবরাহের পাইপ লাইন কেটে ফেলায় তিনশত পরিবারের প্রায় দেড় হাজার মানুষ পানির অভাবে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গত এক মাস ধরে সুপেয় পানির অভাবে পরিবারগুলোর মাঝে হাহাকার শুরু হয়েছে। সমস্যা নিরসনে এখন পর্যন্ত কেউ পাশে দাঁড়ায়নি এমন ক্ষোভ ভুক্তভোগীদের। বরং প্রভাবশালী মহলের রোষাণলে পড়েছে তারা। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবি দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য উপজেলার ঘুড়কা কুণ্ডু পাড়া এলাকায় বিদেশী সংস্থা কোরিয়ান এলজি কোম্পানির অর্থায়নে রায়গঞ্জ গুড নেইবারস একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এতে ব্যয় ধরা হয় ৬৫ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে সুপেয় পানি সরবরাহে জন্য প্রকল্পটি উদ্ভোধন করা হয়। ১১ সদস্যের একটি সমবায় সমিতির মাধ্যমে ৩০১টি পরিবারকে এই প্রকল্পের আওয়তায় আনা হয়। গত পাঁচ বছর ধরে পরিবারগুলো সুপেয় পানির ব্যবহার করে আসছিল। প্রকল্পটি চলমান থাকায় প্রায় দেড়হাজার মানুষ সুবিধা ভোগ করে আসছিল।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর এই গ্রামে ৮০০ মিটার একটি রাস্তা পাকাকরণে দরপত্র আহ্বান করেন। কাজটি সম্পন্ন করার জন্য একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি না করে ঘুড়কা গ্রামের জনৈক প্রভাবশালী গৌতুম কুণ্ডকে সাব ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেন। উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর কাজটির কার্যাদেশ দেয়া হলে সাব ঠিকাদার বেকুমেশিন দিয়ে রাস্তার মাটি তুলে ফেলে। এর ফলে সুপেয় পানির সমস্ত পাইপলাইন কেটে যায়। পাইপগুলো কেটে বিভিন্নভাবে অকেজো করে দেয়া হয়। পাইপলাইন কেটে ফেলায় তিনশত পরিবারের পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেও কোনো ফল পায়নি। পানি না পেয়ে নানা সমস্যায় পড়েছেন সুবিধাভোগী পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় সুবিধাভোগী রুনু রানী কুন্ডু ,লাইলী খাতুন, নিরেন কুন্ডু, রাম কৃষ্ণ, কৃষ্ণা কুন্ডু, সাধনা কুন্ডু, বাসুদেব কুন্ডুসহ একাধিক ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রায় এক মাস হলো আমরা সুপেয় পানি পাচ্ছি না। বর্তমান তীব্র গরম আর ঘনঘন লোডশেডিং এ এমনিতেই জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমরা অনেকে খেটে খাওয়া মানুষ, দীর্ঘদিন পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বর্তমানে আমরা অন্যের বাড়ি থেকে পানি এনে পরিবারের সকল কাজ কর্ম করছি। অনেক দূর থেকে পানি টেনে আনতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। পরিবারের সদস্যদের তেমন ইনকাম না থাকায় নতুন করে টিউবওয়েল তৈরি করতেও পারছি না। গৌতম কুন্ডু এক মাস হলো আমাদের পানি দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সে তার নিজের কাজের জন্য আমাদের পানি সরবরাহের পাইপগুলো তুলে ফেলেছে। এখন আমরা পানি জন্য নানা যন্ত্রণায় দিন যাপন করছি। এদিকে গ্রামে কোনো পুকুর বা জলাশয় নেই। যেকারণে আরো তীব্র সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্পটির সভাপতি অনিতা রানী বলেন, সাব ঠিকাদার গৌতম কুন্ডুকে আমি রাস্তার কাজ শুরু করার আগে বলেছি। রাস্তার কাজ যেই ব্যক্তি পায় সে যেন পানি সরবরাহের লাইনটি ঠিক রেখে রাস্তা নির্মান কাজ করে। গৌতম রাস্তার সাব ঠিকাদার হিসেবে নির্মাণের দায়িত্ব পেলে তার ভাইকে সাথে নিয়ে ৩০১ পরিবারের সুপেয় পানি সরবরাহের পাইপ গুলো ভেকু মেশিন দিয়ে ভেঙে ফেলে। আমি বাধা দিলে আমাকে এবং আমার ভাইকে প্রান নাশের হুমকি দিয়েছে। একমাস ধরে আমাদের এলাকার সুবিধাভোগী পরিবারগুলো পানি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়ে হাহাকার করছে।
রাস্তার কাজের সাব ঠিকাদার গৌতম কুন্ডু বলেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য পানি সরবরাহের পাইপগুলো তুলে ফেলা হয়েছে। রাস্তার কাজ শেষ হলে সকলের সাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে পানি সরবরাহ চালু করা হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো: আব্দুল লতিফ বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কেউ অভিযোগ করেনি। তবে ঠিকাদারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৃপ্তি কণা মণ্ডল বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানির জন্য মানুষ হাহাকার করবে এমটি মেনে নেয়ার মত নয়।



