রাজধানীর ডেমরায় মদের বার বন্ধে ফের প্রতিবাদ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (১৬ জুন) জুমার পর বাঁশেরপুর এলাকায় মল্লিকা ফেরদৌস টাওয়ারে সামনে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ সময় বাঁশেরপুল আবাসিক এলাকা থেকে মল্লিকা টাওয়ারের তৃতীয় তলায় অবস্থিত মদের বারটি অন্য অভিজাত এলাকায় স্থানান্তরের জন্য আগামি সাত দিনের আল্টিমেটাম দেন এলাকাবাসী।
এতে উপস্থিত ছিলেন বাঁশেরপুল এলাকার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব, সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী ও অভিভবাকমহলসহ সর্বস্তরের জনগণ।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজধানীর খুব কাছে থেকেও স্বাধীনতার পর থেকেই ডেমরা অঞ্চলটি বসবাসের জন্য শান্তিপূর্ণ রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক অবক্ষয় নেই বললেই চলে। এখানে ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ নানা শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষের বসবাস করে। এছাড়া মদের বারটির ২০০ গজ দূরে গোলাম মোস্তফা ও শামিম শিকদার স্কুল অ্যান্ড কলেজ অবস্থিত। কিছু দূর সামনেই ঐতিহ্যবাহী সামসুল হক খাঁন ও মান্নান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। পাশাপাশি বারের ভবনটিতে সাব রেজিস্টার অফিস, ব্যাংক, ওপরে আবাসিক বাসাবাড়ি, পাশে মেডিক্যাল, আশপাশে আটটি মসজিদ, পাঁচটি মাদরাসাসহ ডেমরা থানা এলাকায় অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ রয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, মদের বারটি চালানোর অনুমোদন রয়েছে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায়। কিন্তু তারা জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে জোরপূর্বক বাঁশেরপুল এলাকায় বার করেছে। অনেক আগেই ডেমরায় শিক্ষার মানোন্নয়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় এখান থেকে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বড় বড় পর্যায়ে নিজের অবস্থান গড়েছেন। এখন যদি মদের বারটি এ এলাকায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে তাহলে ডেমরার শান্তি বিনষ্ট হয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে। বাড়বে সামাজিক অবক্ষয়। মদ সহজলভ্য হলে নেশায় বুঁদ থাকবে যুব সমাজসহ অধিবাসীরা। তাই মদের বারটি দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন।
ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শফিকুর রহমান (পিপিএম) বলেন, এলাকাবাসী শান্তিপূর্নভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। বার কর্তৃপক্ষ সরকারি অনুমোদন নিয়ে কাজ করছে। আর এলাকাবাসী বারের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন দফতরে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে। তাই সরকারিভাবে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেঅনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।



