ভোলার লালমোহন সদর উপজেলা থেকে লর্ডহার্ডিঞ্জের প্রধান সড়কের ওপর নির্মিত ধলীগৌরনগরের জনবহুল ও ঐতিহ্যবাহী হাট চতলার উত্তর পাশের ব্রিজটি এখন মরণ ফাঁদ। বেতুয়া নদীর উপশাখা চতলা খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটির দু’পাশের রেলিং ভেঙে গিয়েছে।

কয়েক মাস আগে ওই ব্রিজটির মাঝখানে ভেঙ্গে গিয়ে বিশাল গর্তে পরিণত হয়। ইট ও ঢালায় খসে পড়ে ভেঙে যাওয়া ব্রিজের রডের ফাঁক দিয়ে খালের পানি দেখা যায়। ব্রিজটির দু’পাশে টানানো হয়নি কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড। ব্রিজটি এখন জনসাধারণের জন্য মারণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, বড় ও মাঝারি ধরনের যানবাহন চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় এ সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। হতে পারে প্রাণহানিও। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রাক, রিক্সা, অটো, ভ্যান ও মটরসাইকেল।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী বয়ে যাওয়া বেতুয়া নদীর উপশাখা চতলা খালের ওপর চতল বাজার-সংলগ্ন ব্রিজটির দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে ভেঙে যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। এ ব্রিজের ওপর দিয়ে উপজেলা শহর থেকে চতলা ও লর্ডহার্ডিঞ্জ বাজারে শত শত যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো যান চলাচল করতে পারছে না। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহনের চালকদের।

স্থানীয়রা ব্রিজটির ওপর কিছুদিন কাঠ দিয়ে কোনোরকমে হালকা যানবাহন পারাপার করলেও এখন তাও ভেঙে যায়। ব্রিজটির ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে রিক্সা, ভ্যান, অটো ও মটরসাইকেল। বতর্মানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ব্রিজটির ওপর দিয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ী মো: নিবির মহাজন, মাওলানা মো: মোসলেহ উদ্দীন ও আনিচল হক মিয়া বলেন, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল ও যানবাহন যাতায়াত করে এ সড়ক দিয়ে। ব্রিজটি ভাঙ্গার কারণে যানবাহন আশা যাওয়া করতে পারে না। দীর্ঘদিন ব্রিজটি ভেঙে রয়েছে। দেখার যেন কেউ নেই।

সফিজল ও বজলুর রহমান নামের দুজন ব্যক্তি বলেন, প্রতিদিন এই ব্রিজটি কয়েকশ’ মানুষ ও যাত্রীবাহী গাড়ি আসা যাওয়া করে। ব্রিজটা পুননির্মাণ করা জরুরি।

এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা প্রকৌশলী রাজীব সাহা দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ব্রিজটি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ওই ব্রিজটি ছাড়াও উপজেলায় মোট ১২টি ব্রিজ সম্পর্কে কতৃপক্ষকে অবগত করেছি। বরাদ্দ পেলে টেন্ডারের কাজ সমাপ্ত করে কাজ শুরু করা হবে।