ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর মনোহরদীতে জাহাঙ্গীর হোসেন (২৭) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় শাহীন (২০) এবং তানজিল (২৬) নামে আরো দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত ১১ জুন রোববার দুর্বৃত্তদের হাতে আহত হলেও গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়। নিহত জাহাঙ্গীর মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের উরুলিয়া গ্রামের মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে এবং এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।

নিহতের পরিবার, পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে উরুলিয়া ও মির্জাপুর গ্রামের মধ্যে ফুটবল খেলা চলাকালে জাহাঙ্গীরের সাথে মির্জাপুর গ্রামের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সাথে বাগাবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার ১৪ দিন পর গত রোববার বিকেলে জাহাঙ্গীর তার দুই বন্ধু শাহীন ও তানজীলকে নিয়ে চালাকচর বাজার থেকে মোটরসাইকেলে নিজ গ্রাম উরুলিয়ায় ফেরার পথে চালাকচর বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছলে বড় মির্জাপুর গ্রামের মোজাম্মেল, ইবরাহিম, মোশাররফ হোসেন, জামাল উদ্দিন এবং আবু বকরসহ ১০-১২ জন মিলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে জাহাঙ্গীর, শাহীন ও তানজীলকে বেধড়ক মারধর করে। জাহাঙ্গীর ও শাহীন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের উদ্ধার করে গুরুতর আহত জাহাঙ্গীরকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতাল এবং শাহীনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর শুক্রবার (১৭ জুন) জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সুমন মিয়া বাদি হয়ে মনোহরদী থানায় গত ১৫ জুন অভিযুক্ত সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মারধরের মামলা করেন।
এ বিষয়ে মনোহরদী থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর থানায় একটি মারধরের অভিযোগ করা হয়েছিল। এটি এখন হত্যাকাণ্ডের ধারায় পরিণত হবে।