ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামে চুরি করতে গিয়ে মরিয়ম বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধাকে ঘরের ভেতর হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৯ জুন) এ ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সকালে ইব্রাহিমপুর থেকে ইউসুফ মিয়া ওরফে বুইদ্যা (৩৪) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে চোরের দল মধ্যরাতে মরিময় বেগমের ঘরে প্রবেশের পর বৃদ্ধা টের পেয়ে বাধা দেয়ায় চোরেরা বৃদ্ধাকে শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করে।
নিহত বৃদ্ধা উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মরহুম মিলন মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগম।
জানা যায়, বৃদ্ধা তার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে একাই বসবাস করতেন। তার এক ছেলে পরিবার নিয়ে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। একমাত্র মেয়ে উপজেলার বাঙ্গরা গ্রামে স্বামীর বাড়িতে থাকেন। ফলে ওই মরিয়ম বেগম একাই বাড়িতে থাকতেন। রোববার দুপুরে বৃদ্ধার ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছিলেন না। পরে ঘরের পেছনের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে লোকজন ঘরে ঢুকেন। এ সময় ঘরে থাকা স্টিলের আলমারি ভাঙ্গা অবস্থায় তছনছ করাসহ ওই বৃদ্ধাকে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে খবর পেয়ে নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: সিরাজুল ইসলাম ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোহাম্মদ সোহেল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে রাতেই থানায় নিয়ে যান।
নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, তার মূল বাড়ি বাঙ্গরা থানার দৌলতপুরে। সে নবীনগর উপজেলার চেলিখোলা গ্রামে বসবাস করে। নিহত বৃদ্ধার মাথায় তীব্র আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে নিহতের ছেলে মামুন মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে ।
গ্রেফতার হওয়া ইউনুস মিয়া খুনের সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকেদের কাছে বলেন, চুরি করতে ওই বৃদ্ধার ঘড়ে প্রবেশ করার পর ওই বৃদ্ধা আমাকে ধরে ফেলেন। তার হাত থেকে ছুটতে গিয়ে ওই মহিলার মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে আসি।



