ময়মনসিংহের ভালুকায় নিয়মনীতি ও আইন অমান্য করে সর্বত্রই জমির শ্রেণী পরিবর্তনের হিড়িক পড়েছে। বনবিভাগের উঁচু টিলা কেটে এনে মহাসড়কের দু’পাশের জলাশয় ও বিভিন্ন খালবিল ভরাট করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের চোখে পড়ে না। এ উপজেলায় প্রায় ১০০টি ভেকু দিয়ে মাটি কেটে এবং দুই শতাধিক ড্রামট্রাক দিয়ে দিনরাত সেই মাটি বহনের কারণে এক দিকে যেমন উপজেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি কাঁচা-পাকা রাস্তার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, তেমন বনাঞ্চলের গাছপালা সব উজাড় হয়ে জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভালুকা পৌর এলাকা, জামিরদিয়া মাস্টারাবাড়ি, সিডস্টোর, ডাকাতিয়া, কাচিনাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫০টি ভেকু মেশিন ও দুই শতাধিক ড্রামট্রাক রয়েছে। আর ওইসব ভেকু ও ড্রামট্রাক দিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে দিনরাত বনবিভাগের উঁচু টিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করে চলছে একটি সিন্ডিকেট। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বারশ্রী গ্রামের মনিরুজ্জামান মনির, মাহবুবুল আলম ওরফে টুপি আলম, জাহাঙ্গীর, মোহর আলী, মনির হোসেন, মোকলেছু রহমান, খাইরুল ও সুজন, উজ্জ্বল মিয়া ও রুবেলের প্রত্যেকের দু’টি করে ভেকু ও একাধিক ড্রামট্রাম রয়েছে। এছাড়া, কাদির ড্রাইভারের ৪টি, কামাল ও মারুফের ৫টি, শামীমের ৫টি, মতিউর রহমান মতির (বর্তমান ইউপি মেম্বার) ৪টি, পৌর এলাকার রনি ও খসরুর ৪-৫টি ভেকু ও ড্রামট্রাক রয়েছে। রিপন, নজরুল এবং নুরুদ্দিনের একটি করে ভেকু মেশিন রয়েছে। এসব ভেকু ও ড্রামট্রাকের মালিকরা স্থানীয় বনবিভাগকে ম্যানেজ করে প্রশাসনের নাকের ডগায় বনবিভাগের উঁচু টিলা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে, একদিকে যেমন বনঅধ্যুসিত এলাকার শত শত একর বনভূমির গাছ (গজারীসহ বিভিন্ন প্রজাতীয় গাছ) উজাড় হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে উঁচু টিলার জমিগুলো শ্রেণী পরিবর্তন হয়ে নিম্ন ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। ড্রামট্রাকে ওই সব মাটি আনা নেয়া করার কারণে সরকারি-বেসরকারি কাঁচা-পাকা রাস্তারও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। জানা গেছে, হবিরবাড়ি মৌজার বনবিভাগের ৭৫৪ নম্বর দাগসহ উঁচু টিলা ও তার আশপাশের বিভিন্ন দাগের গজারী বনের মাটি ও বড় বড় গাছ কেটে নিয়ে কিংবা আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আম বাগানসহ বিশাল আকারের বিনোদন কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।
চারটি ভেকু ও দু’টি ড্রামট্রাকের মালিক আব্দুল কাদির ড্রাইভার জানান, ভালুকায় শতাধিক ভেকু ও দুই শতাধিক ড্রামট্রাক রয়েছে। রাস্তা ঘাটের ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, তাদের এসব ড্রামট্রাক ও ভেকু বেশিরভাগই ভাড়ায় পরিচালিত হয়ে থাকে। যারা মাটির ব্যবসা করেন, তারাই ক্ষতির বিষয়ে জবাবদিহি করবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদুল আহমেদ জানান, ভূমির শ্রেণীর পরিবর্তন একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তা ছাড়া ড্রামট্রাকে মাটি বহনের কারণে সরকারি-বেসরকারি কাঁচা-পাকা রাস্তার ক্ষতির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শিগগিরই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



