ঢাকায় এসে ‘ভুল চিকিৎসায়’ নবজাতকসহ না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো মাহবুবা রহমান আঁখিকে কুমিল্লার লাকসামে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।

সোমবার (১২ জুন) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পর তার লাশ নিয়ে রাত সোয়া ৯টায় লাকসাম উপজেলার লাকসাম পূর্ব ইউনিয়ন গাইনের দরা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান তার স্বজনরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শেষবারের মতো তাকে (আঁখি) ও তার নবজাতকে দেখতে ছুটে আসেন তার স্কুল জীবনের সহপাঠিসহ এলাকার শত-শত নারী পুরুষ। পরে রাত ১০টার দিকে ওই গ্রামে জানাজা শেষে নবজাতকসহ তাকে তার বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

আঁখি লাকসাম নরপাটি (লাকসাম পূর্ব) ইউনিয়নের গাইনের দরা গ্রামের পুলিশের সাবেক এসআই মাহবুবুর রহমানের মেয়ে। তিনি ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজে উচ্চতর গণিত বিভাগে শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। স্কুল শিক্ষক ইয়াকুব আলী সুমনের সাথে তার বিয়ে হয়।

তার স্বামী ইয়াকুব আলী পাশের নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা। তিনি তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

তার স্বামী স্কুল শিক্ষক ভুল চিকিৎসায় স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি জানান।

আঁখির বড় বোন নাসরিন বলেন, ‘আমার বোন আঁখিকে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই। তাদের ফাঁসি চাই।’

আঁখির চাচতো ভাই শাখাওয়াত হোসেন শামীম বলেন, ‘চিকিৎসকদের কাছে মানুষ কত অসহায় ও জিম্মি নবজাতক এবং তার মায়ের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে তা প্রমাণিত হল। এ ঘটনায় জড়িত সকলের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করছি।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার (৯ জুন) তার প্রসব বেদনা শুরু হয়। রাজধানীর গ্রীন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে ভর্তি হয়ে ক্যাশ কাউন্টারে ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে মানি রিসিট লেবার ওয়ার্ডের নার্সের কাছে জমা দেন তার স্বামী। সেখানে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর পর মুমূর্ষু তাকে সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে ল্যাবএইডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। রোববার (১১ জুন) দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে তিনি ল্যাবএইড হাসপাতালে লাইফসাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান।