কক্সবাজার পর্যটনের অপার সম্ভাবনার দুয়ার নিয়ে বসে আছে। এক দিকে পাহাড় অন্য দিকে বিশ্বের দীর্ঘতম ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত। পাহাড়-সমুদ্রের পাশ দিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক। এক পাশে দীর্ঘ সমুদ্র অন্য পাশে হিমছড়ি ঝরনা, সবুজ অরণ্য, মাঝপথে আঁকা-বাঁকা মেরিন ড্রাইভ সড়কের অপরূপ দৃশ্য। সমুদ্র আর রেজু খালের পাশ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন মিনি বান্দরবান খ্যাত রূপসী গোয়ালিয়া।
স্থানীয় মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, বেড়াতে আসা ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা কক্সবাজারে এলেই হিমছড়ি ঝরনা, পাথুরে গাঁথা উখিয়ার ইনানী সমুদ্রসৈকত, আর মিনি বান্দরবান খ্যাত গোয়ালিয়ার সৌন্দর্য উপভোগ করেন। পাহাড়ে দাঁড়িয়ে পর্যটকরা ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। উখিয়ার রেজুখাল সংলগ্ন মিনি বান্দরবান খ্যাত গোয়ালিয়া কক্সবাজারের অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এখানকার প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্য্য দেখতে পুরো বছরই দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে। পদচারণায় মুখরিত থাকে পর্যটন কেন্দ্রটি। বিশেষ করে দুই ঈদে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় হয়। পাহাড়-সমুদ্রের পাশাপাশি এখানে রয়েছে সারি সারি নারিকেল ও সুপারির বাগান। নৈসর্গিক শোভা ও মনোমুগ্ধকর অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে এ এলাকায়। উখিয়ার গোয়ালিয়া দিনকে দিন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এলাকা হয়ে উঠছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী কর্নেল অলি আহমদকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণে নির্দেশনা দেন। ঠিক ওই সময়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়ার রেজুখালের উপর সেতু নির্মাণ করা হয়। রেজুখাল সেতুর পাড়ে সবুজ বনানী ঘেরা এক মায়াবী পরিবেশে সবাইকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে গোয়ালিয়া।
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করে দারুণভাবে। উখিয়ার সোনারপাড়া, রেজুখাল সংলগ্ন গোয়ালিয়া ও ইনানী সমুদ্রসৈকত এলাকার চার পাশে রয়েছে সবুজের সমারোহ। এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ ফাঁড়িও।
দিনাজপুর থেকে আসা মনোয়ারুল মোস্তফা সাগর বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছি। আমার বাবা উখিয়ায় এলজিইডির প্রকৌশলী ছিলেন। তখন আমি ছোট ছিলাম। এখন বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে আমার ছোটকালের স্মৃতিময় ইনানী ও গোয়ালিয়ায় বেড়াতে এসেছি। রেজুখালের স্বচ্ছ পানি ও মিনি বান্দরবান খ্যাত গোয়ালিয়া দেখতে অপরূপ। তার স্ত্রী বললেন, ঠিক বান্দরবানের মতো আঁকা-বাঁকা উঁচু পাহাড়ি জনপদের গোয়ালিয়া আমার খুব ভালো লেগেছে। দু’পাশে উঁচু উঁচু পাহাড় আর মাঝপথে সুন্দর রাস্তা ও নানা রকমের বাগান ও পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা আমাকে দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে। এটিকে সুন্দর করে রাখা আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য।