দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর মেধাবী ছাত্র রিয়াদ হোসেনকে (২১) হত্যার প্রতিবাদে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার সকল মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় দারুস সুন্নাহ সিদ্দিকীয়া ফাযিল মাদরাসার আয়োজনে পৌর শহরের বটতলি মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন করেন তারা।
নিহত রিয়াদ ফুলবাড়ী উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমানের একমাত্র সন্তান। তিনি রাজধানী ঢাকার মিরপুর প্রাইম ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন। এর আগে দারুস সুন্নাহ সিদ্দিকীয়া ফাযিল মাদরাসার ছাত্র ছিলেন তিনি।
মানববন্ধনে দারুস সুন্নাহ সিদ্দিকীয়া ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এ এস এম শাহাদতুল্লাহের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রিয়াদের বাবা খাজাপুর মাদরাসার অধ্যক্ষ মাহাবুবুর রহমান, শাহাপুর মাদরাসার সুপার সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাব, মেলাবাড়ী মাদরাসার সুপার আবরাক হোসেন, তেতুলিয়া মাদরাসার (ভারপ্রাপ্ত) সুপার আব্দুল জব্বার, পানিকাটা মাদরাসার সুপার আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আব্দুল আলিম, ইবনুর, আলমগীর, সুমাইয়া, ফারিয়া ও মরিয়ম।
বক্তারা বলেন, নিহত রিয়াদ হোসেন ফুলবাড়ী দারুস সুন্নাহ সিদ্দিকিয়া ফাযিল মাদরাসার একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। রিয়াদ ২০২০ সালে এখান থেকে আলিম পাশ করেন। পরে ঢাকায় প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। মেধাবী ছাত্র রিয়াদকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। একইসাথে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবিও জানানো হয়।
মানববন্ধনে ফুলবাড়ী উপজেলা সকল মাদরাসার শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১২ জুন বিকেলে রিয়াদের প্রতিবেশী চাচা নাঈম নতুন মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে রিয়াদকে তার ঢাকার গাজীপুরের মেস থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে তার আর খোঁজ মেলেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার পরিবারের লোকজন গাজীপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ১৬ জুন বিকেলে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার রতনপুর ধোপাচালা এলাকায় বনের ভেতর থেকে রিয়াদের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। এরপর কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় ১৭ জুন র্যাব-১ তদন্ত করে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মানপুর এলাকা থেকে নাঈম হোসেনকে গ্রেফতার করে।



