জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে প্রধান নদ-নদী ব্রক্ষপুত্র ও যমুনাসহ শাখা নদী জিনজিরাম, বৈরাল মারী ও মহারানীসহ সব নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) সকাল থেকে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে এ নতুন পানির বন্যা দেখা দেয়। উপজেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষণে পানিতে সয়লাব নদ-নদী।

তিন দিন ধরে নদ নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। নদীপাড় ও নিচু এলাকায় জমা জমিতে আবাদ করা ফসল পাট, কাউন ও চিনাসহ অন্য ফসল তলিয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পানি পরিমাপক মো: আ: মান্নান নয়া দিগন্তকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত বিপদ সীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন্নাহার শেফা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মাজহারুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বন্যায় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র ও ত্রাণ সাহায্য প্রদানে কোনো অসুবিধা হবে না। তারা পানি বৃদ্ধি ও নদ নদীতে ভাঙ্গনের বিষয়ে অবগত আছেন বলে জানান।

চিকাজানী ইউনিয়নের কৃষক ছামিউল হক ও ছাকিরুল হক জানান, সেখানকার একটি স্লুইস গেটের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেখান দিয়ে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। এতে প্রায় ২০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড চুনিয়াপাড়া গুলুঘাট এলাকায় এবং উপজেলা পরিষদের আশপাশে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের বকুল মিয়া জানান, গত ১৯ জুন তারাটিয়া মোয়ামারী গ্রামের ব্যবসায়ী মিষ্টার মিয়ার তিন বছরের ছেলে শিশু জীবন মিয়া পানিতে পড়ে মারা গেছে। দাফন হয়েছে পারিবারিক কবরস্থানে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বন্যার পানি প্রবেশ ও নদ নদীতে ভাঙ্গনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।