ময়মনসিংহের ভালুকায় ইটের সলিং রাস্তা নির্মাণের ১৫ দিনের মাথায় কিছু অংশ ধসে পড়ল মাছের খামারে। এতে চলতি বর্ষায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। অনিয়মের মধ্য দিয়ে কাজ করার কারণে এমনটি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিন পথচারী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা তহবিল হতে উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের সোয়াইল শান্তির বাজার থেকে উথুরা রাস্তার চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত ৩১৪ ফুট সড়কে এইচবিবিকরণ কাজের জন্য চার লাখ ৭৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ইউপি চেয়ারম্যানের সার্বিক সহযোগিতায় কাজটির দায়িত্ব পান স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ওমর ফারুক। কিন্তু যথাযথ নিয়মে কাজ না হওয়ায় এইচবিবিকরণের ১৫ দিনের মাথায় রাস্তার একটা বড় অংশ পাশের পিঙ্গার বিলের মাছের খামারে ধসে পড়ে।
এলাকাবাসী জানান, জগৎবেড়, বনকূয়া, নারঙ্গীপাড়া, পানিবান্ডা ও বগাজান নামাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার লোকজন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। রাস্তাটি ভেঙে পড়ায় চলতি বর্ষায় তাদের চরম দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে চলাচল করতে হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কাজের মান খুবই খারাপ, নিম্নমানের ইট ও বালি দেয়ার কারণে এমনকি রাস্তার পাশে খাড়া ঢাল ও মাছের খামার থাকার কারণে নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই ধসে পড়েছে।
ওয়ার্ড মেম্বার ওমর ফারুক জানান, এলজিএসপির অর্র্থায়নে কাজটি ১৫ দিন আগে শেষ হয়েছে। রাস্তার পাশে মাটি না থাকার কারণে কিছু অংশ মাছের খামারে ধসে পড়েছে। ঈদের পর ধসে যাওয়া অংশটুকু মেরামত করে দেয়া হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার রানী রাস্তা এইচবিবিকরণের ১৫ দিনের মাথায় ভেঙে পড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, মাছের খামারের মালিক আজম খানকে ভেঙে পড়া অংশটুকু মেরামত করে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ৩১৪ ফিট রাস্তার জন্য পৌনে পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়ার পরও কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর ইস্টিমেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।