আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনের প্রত্যন্ত এলাকায় ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এভার ক্ষমতাসিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আবাস পাওয়া যাচ্ছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রায় সকল ক্ষেত্রে চলছে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন। একাধিক নেতা মাঠে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নৌকা ও ধানের শীষের টিকিট কারা পাচ্ছেন এ নিয়ে চলছে কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে বাহাস।
নির্বাচন অফিস ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও দাগনভূঞা উপজেলার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৮৯ হাজার। ১৯৯১ সালে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন সাবেক জাতীয় সংসদের হুইপ মরহুম মাহবুবুল আলম তারা। ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার বিএনপি থেকে মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন। মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন মারা যাওয়ার পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উল্লাহ। ২০১৮ সালে বিএনপি বিহীন নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লে: জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচিত হন। সেই থেকে তিনি নিজের শক্ত অবস্থান এখনো ধরে রেখেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে আবারো প্রার্থিতা পেতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
এদিকে মোশাররফ হোসেন মারা যাওয়ার পর এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম আলোচনার শীর্ষে। জন্মস্থান দাগনভূঞা হলেও বিশিষ্ট এই ব্যবসায়ী রাজধানীতে তার শক্ত অবস্থান থাকায় তার নির্বাচনী এলাকা কোনটা হবে এ নিয়ে ভাবনায় নেতাকর্মীরা। তিনি প্রার্থী না হলে তার ছোট ভাই দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন। এ ছাড়া অন্যদের মধ্যে বিএনপির নেতা জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি, প্রবাসী বিএনপি নেতা মো: সোলায়মান ভূঞা প্রার্থী হতে পারেন।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য হেভিওয়েট একাধিক প্রার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছেন- ২০১৪ সালে নির্বাচিত হওয়া সাবেক এমপি প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা হাজী রহিম উল্যাহ, ঢাকা উত্তর যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বায়রা সভাপতি শিল্পপতি আবুল বাশার, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এবং ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, সাবেক সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম এবং কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রোকেয়া প্রাচী। জাতীয় পাটি থেকে বর্তমান এমপি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লে: জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। জামায়াত ইসলামী থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও সাবেক ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা: ফখরুদ্দিন মানিকের নাম শোনা যাচ্ছে।
সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম জানান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু ফেনী-৩ আসনে বেশ জনপ্রিয়। তিনি কোনো কারণে প্রার্থী না হলে তার ছোট ভাই ফেনী-৩ বিএনপির সমন্বয়ক দাগনভূঞা মাটি ও মানুষের নেতা আকবর হোসেন আকবর প্রার্থী হতে পারেন।
সাবেক এমপি প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা হাজী রহিম উল্যাহ জানান, আমাদের দল ১৪ বছর টানা ক্ষমতায়। আমি দল ও এলাকার জন্য অনেক কাজ করেছি। আমি এবার ফেনী-৩ আসনে দলীয় ভাবে নৌকার প্রার্থী চাই।
বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লে: জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমার কোন উচ্চাকাক্সক্ষা নেই। আমি এ সময়ে ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিসহ এলাকার উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। ম্যাডাম (শেখ হাসিনা) যাকেই এ আসনের জন্য ভালো মনে করবেন তাকেই প্রার্থিতা দিবেন। আমরা তার পক্ষে কাজ করবো।
ফেনী-৩ আসনে আ’লীগ ও বিএনপিতে সক্রিয় হেভিওয়েট প্রার্থীরা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনের প্রত্যন্ত এলাকায় ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এভার ক্ষমতাসিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের...



