খুলনার পাইকগাছায় পরকীয়ার জেরেই চাচত ভাইয়ের হাতে খুন হয় মসলা ব্যবসায়ী অনুপ মণ্ডল (২৮)। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘাতক আনন্দ মণ্ডলকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ জুন) বিকেল ৫টার দিকে সন্দেহজনকভাবে আনন্দকে আটক করা হয়। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। বুধবার (২৮) সকালে তার কথা মতো ফুলবাড়ী গেটের খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত অনুপ মণ্ডল উপজেলার দেলুটির ফুলবাড়ি এলাকার অনুকূল মণ্ডলের ছেলে। গ্রেফতার আনন্দ মণ্ডল একই এলাকার নির্মল মণ্ডলের ছেলে। নিহত এবং ঘাতক একে অপরের চাচত ভাই।
জানা গেছে, সোমবার (২৬ জুন) সকালে উপজেলার দেলুটির ফুলবাড়িতে অনুপ মণ্ডলের গলা কাটা লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ওই দিন রাতেই নিহতের বাবা অনুকূল মণ্ডল অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বেশ কিছু তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুর করে পুলিশ। বিশেষ করে মাস তিনেক আগে নিহত
অনুপের চাচত ভাই আনন্দর স্ত্রী জয়ার আত্মহত্যার সূত্রে ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানানম, নিহত অনুপের সাথে তার
চাচাত ভাই আনন্দর স্ত্রী জয়ার সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। যা নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হয়। প্রায় তিন মাস আগে জয়া আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠেন আনন্দ। ওই ঘটনায় অনুপকে দায়ী করে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত রোববার (২৫ জুন) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে তিনি অনুপকে বাড়ির পাশে বিলের নির্জন ভিটায় ডেকে নেন। এরপর কৌশলে প্রথমে গেঞ্জি দিয়ে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার করেন এবং পরে ফল কাটা ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর ব্যবহৃত ছুরিটি পাশের ফুলবাড়ি গেটের খালে ফেলে দেন।



