কিশোরগঞ্জের কুলিযারচরে ইয়াসিন (১৭) বন্ধুদের সাথে পিকনিক করতে গিয়ে নৌকা থেকে কালী নদীতে পড়ে নিখোঁজের দু’দিন পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-থানা পুলিশ।

ইয়াসিন কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোবরিয়া এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, রোববার (২ জুলাই) সকালে বন্ধুদের সাথে পিকনিক করতে পর্যটকবাহি নৌকাযোগে দিনব্যাপী ঘোরাফেরা শেষে সন্ধ্যায় ভৈরব-কুলিয়ারচর কালী নদীর উপর অবস্থিত জিল্লুর রহমান সেতুর এলাকায় পৌছে। এ সময় প্রচণ্ড বজ্রপাতের সাথে ভারী বর্ষণ ও নৌকায় সাউন্ড বক্স বাজিয়ে হৈ চৈ করছিল তারা। এরই এক ফাকেঁ নিহত কিশোর নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হয়। পরে খবর পেয়ে ভৈরব নৌ-থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অনেক খোজাঁখোজি করে আজ মঙ্গলবার নিহতের লাশ উদ্ধার করে।

ইয়াসিনের বাবা বাচ্চু মিয়া বলেন, তারি এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ইয়াসিন ছোট। ইয়াসিন স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। সে একজন মুদি দোকানদার। তাই সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ইয়াসিনকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু বয়স কম হওয়ায় আগামী বছর বিদেশে পাঠানোর সব প্রস্তুতি ছিল। হঠাৎ করে কি যে হয়ে গেল। সব স্বপ্ন ভেঙে গেল।

তিনি আরো জানান, রোববারে সন্ধা ৬টার সময় আমার ছেলের সাথে মোবাইল ফোনে আমার মেয়ের কথা হয়েছে যে, তারা নৌকা ভ্রমন থেকে চলে আসতেছে। কিন্তু আবার ৭টার সময় মোবাইল ফোনে খবর আসে ইয়াসিনের সমস্যা হয়ছে। তাড়াতাড়ি আসতে হবে। পরে এসে দেখি ইয়াসিন নিখোঁজ।

ভৈরব নৌ-থানার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম জানান, রোববার রাত সাড়ে ৯টার সময় সংবাদ পায় নৌকা ভ্রমণ শেষে কয়েকজন কিশোর জিল্লুর রহমান সেতুর নিচে কালী নদীতে নৌকা থেকে পড়ে। এ সময় কিশোর ইয়াছিন নিখোঁজ হয়েছে। আমরা ভৈরব ও কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস, ভৈরব থানা ও কুলিয়ারচর থানায় খবর দেই। রোববার থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করে আজ দুপুরে কালী নদীর মাঝ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।