সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফুলজোর নদীর তীরবর্তী নলকা কায়েম গ্রাম অবস্থিত। এই গ্রামে প্রায় এক হাজার ৫০০ লোকের বসবাস থাকলেও জায়গা-জমি না থাকাই অন্যের জমিতে ভাঙা টিন আর পলিথিন দিয়ে কোনো রকম ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে বসবাস করছে অসহায় তিনটি পরিবার।

তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি কোনো ঘর। সেখানে নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন ও বিদ্যুৎ। আধুনিক সভ্যতার এই যুগে এমন মানবেতর জীবনযাত্রা একেবারেই বিরল।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার নলকা ইউনিয়নের নলকা কায়েম গ্রামের মরহুম আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে হযরত বেল্লাল (৬৩), ইব্রাহীম খলিল (৬৭) ও শিরিয়া বেগম (৬৫)। এদের জায়গা জমি না থাকায় নলকা কায়েম গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে থাকা অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘরেই বসবাস তাদের। সরকারি ঘর পাওয়ার বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন তারা। কিন্তু ওই ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের বরাদ্দ না থাকায় হতাশ তিনটি পরিবারের সদস্যরা।

অসহায় ভূমিহীন হযরত বেল্লাল, ইব্রাহিম খলিল ও শিরিয়া বেগম বলেন, আমরা নলকা কায়েম গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছি। আমাদের কোনো জায়গা-জমি নাই। তাই প্রাইমারি স্কুলের সাথে থাকা অন্যের জমিতে পলিথিন ও ভাঙ্গা টিন দিয়ে ঝুপড়ি ঘরে কোনোমতো ছেলে মেয়েদের নিয়ে বসবাস করলেও জমির মালিক আমাদেরকে এখান থেকে চলে যেতে বলছেন। আমরা এখন থাকব আর যাব কোথায়। মুজিববর্ষে অনেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর পেলেও আমরা ভূমিহীন হয়েও ঘর পাইনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ আমাদের থাকার মতো ব্যবস্থা করে যেন দেন।

নলকা কায়েম গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, এই পরিবার তিনটি নলকা কায়েম গ্রামের মরহুম আব্দুল কুদ্দুসের সন্তান। তাদের কোনো জায়গা জমি না থাকায় আমাদের স্কুলের পাশে আবুল কালাম আজাদের সামান্য একটু জমির ওপর দীর্ঘ দিন ধরে ভাঙ্গা টিনের ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করছে। তাদের নলকা কায়েম গ্রামে পা ফেলানোর মতো কোনো জায়গা নেই। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ এই পরিবার গুলোকে থাকার মতো ঘরবাড়ি করে দিলে মানবেতর জীবন থেকে আশার আলো দেখত।

নলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমি তাদেরকে চিনি, এখন আমার কাছে সরকারি কোনো ঘর নেই। ঘর এলে তাদেরকে দেয়া হবে।

রায়গঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তৃপ্ত কর্ণা মন্ডল বলেন, পরিবার তিনটিকে ইএনও অথবা এসিল্যান্ড অফিস আবেদন করতে বলেন। সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।