অন্যের জমি বর্গা বা লিজ নিয়ে পেঁয়াজ-পাট, ধান ও আখ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন দরিদ্র কৃষক জাহাঙ্গীর ফকির। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে রাতের আঁধারে তার ক্ষেতের ফসল কেটে ফেলছে কে বা কারা। এবারো একই অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। গত শনিবার রাতের আঁধারে জাহাঙ্গীরের ক্ষেতের অন্তত ১৫০০ পিচ আখ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। তবে কে বা কারা তার ফসলের ক্ষতি করে চলেছে তা বুঝতেই পারছেন না তিনি। জাহাঙ্গীর ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের মশা মহল্লার নুর হোসেন ফকিরের ছেলে।
গত সোমবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাঙ্গীর বলেন, আমি অন্যের জমি লিজ নিয়ে প্রতি বছর পাট-পেঁয়াজ, ধান ও আখ আবাদ করে সংসার চালাই। কিন্তু প্রতি বছরই আমার ক্ষেতের ফসল ও আখ কেটে ফেলে একটি চক্র। এবারো গত শনিবার রাতের আঁধারে আমার ৩০ শতাংশ জমিতে থাকা অন্তত ১৫০০ পিস খাওয়ার উপযোগী আখ কেটে ফেলেছে। আমি রোববার সকালে ক্ষেতে গিয়ে আখগুলো কাটা অবস্থায় দেখতে পাই। কিছু দিন পরেই ক্ষেতের আখগুলো বাজারে বিক্রি করতে পারতাম।
তিনি আরো বলেন, কে বা কারা রাতের আঁধারে আমার এত বড় ক্ষতি করছে, তা ধরতে পারছি না। পাহারা দিয়েও ধরতে পারছি না। কারো সাথে আমার কোনো ধরনের বিরোধও নেই। তার পরও কেনো আমার ক্ষতি করা হচ্ছে বুঝতে পারছি না। যারা আমার ক্ষতি করছে তাদের বিচার আল্লাহ করবেন।
যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরই কৃষক জাহাঙ্গীরের ফসলের ক্ষতি করছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি নিয়ে এবার আমরা ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছি। গ্রামের সবাইকে নিয়ে এক জায়গায় বসে কী করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।
সালথা থানার ওসি শেখ সাদিক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



