ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার আলীয়াবাদ গ্রামের ওপর দিয়ে গত ৩০ জুন বয়ে যায় ভয়াবহ টনের্ডো ও ঝড়বৃষ্টি। এতে আলীয়াবাদ গ্রামের গোলাম সোহরাব হোসেনের একটি গরুর খামার, সাদ্দাম হোসেনের ঘরের চালা ও ইকরাম হেসেনের বসতঘর আকাশে উড়ে যায়। নিজের একমাত্র বসতঘর হারিয়ে ইকরাম তার পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি কোনো সাহায্য সহযোগিতা তাদের কপালে এখনো জুটেনি।
সরেজমিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আলীয়াবাদ গ্রামে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত মোবারকের ছেলে ইকরাম হোসেন বলেন, আমরা রায়পুরা উপজেলার কুড়েরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ছিলাম, মেঘনা নদীর ভাঙনের ফলে আমাদের বাড়িঘরসহ সবকিছুই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পরে স্বজনদের সহযোগিতায় আলীয়বাদ গ্রামে এসে একটি ঘর তৈরি করেছিলাম। এ ঘরটিও টর্নেডো এসে আকাশে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। অর্থের অভাবে ঘরটি মেরামত করতে পারছি না। গত সাত দিন ধরে আমার বৃদ্ধা মাসহ পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি। বৃষ্টি এলে পলিথিন কাগজ শরীরের ওপরে দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করি। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা এখনো আমরা পাইনি।
টর্নেডোর পরপরই নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক বলেছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে এবং এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অথচ ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনো সরকারি কোন সহযোগিতা পায়নি।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্টের কথা জানতে পেরে আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা বাহারাইন প্রবাসী মোশারফ হোসেন ২০ হাজার ও জিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। সাংবাদিক আলামিনুল হক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন।