দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরীকে হত্যা করে বাঁশঝাড়ে ফেলে দেয়ার রহস্য উদঘাটনসহ দুই হত্যাকারিকে আটক করেছে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ।
শনিবার (৮ জুলাই) আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদেরকে আটক করা হয়। এর আগে ৭ জুলাই শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
নিহত ব্যক্তি উপজেলার পুনট্রি ইউনিয়নের গমিরাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী ও একই ইউনিয়নের ঝাড়ুয়া পাড়ার পরলোকগত সুপ্পন্ন সরেনের ছেলে ফিলিমন সরেন (৬০)।
আটকরা হলেন পুনট্রি ইউনিয়নের ঝাড়ুয়া পাড়ার ঢেনা হেমব্রমের ছেলে, নিহতের মেয়ের ভাতিজী জামাই রবিন হেমব্রম (৪০) ও রবিন হেমব্রমের ছেলে রয়েল হেমব্রম (১৬)। তাদের স্থায়ী ঠিকানা হলো দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার লালকাতরী গ্রামে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে ফিলিমন সরেনের বাড়ি হতে অর্ধ কিলোমিটার দূরে একটি বাঁশ ঝাড় হতে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে আমিন সরেন থানায় একটি মামলা করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি মোবাইলের লোকেশন চিহ্নিত করে দুজনকে সনাক্ত করা হয়। পরে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তার অভিযানে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের তথ্যে হত্যার কাজে ব্যবহৃত রড, রক্তমাখা জামা-কাপড়, বালিশ, কর্মস্থলের চাবি, বাঁশের লাঠি ও রক্তমাখা পলিথিন ব্যাগসহ অন্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তারা হত্যার দায় স্বীকার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ মো: বজলুর রশিদ জানান, ক্লুলেস ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্লুলেস হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকারীদের আটক করতে সক্ষম হয়। হত্যাকারীরা নিহত চাচা শ্বশুরের জমি বন্ধকীর এক লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এ স্বীকারোক্তিতে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৭ জুলাই শুক্রবার দুপুর ১২টায় পুলিশ উপজেলার পুনট্রি ইউনিয়নের পাঠান ডাঙ্গা গ্রামের আশ্রম পাড়ার সন্নিকটে বাঁশঝাড় হতে ওই নৈশ প্রহরীর অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়।



