ময়মনসিংহের ভালুকায় বন বিভাগের প্রায় কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক বছর আগে নির্মাণাধীন সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হলেও স্থানীয় বন বিভাগের অসাধু ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে আবার সেই কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ঈদের আগে থেকে আবারো পুরোদমে ওই স্থানে প্রাচীরের কাজ চলছে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর-ঝালপাজা সড়কের চেঁচুয়া মোড় নামক এলাকায় দীর্ঘদিন আগে কিছু জমি কিনে সিপি বাংলাদেশ নামে একটি কোম্পানি মুরগির হ্যাচারির ব্যবসা শুরু করে। এক বছর আগে হ্যাচারির পাশেই হবিরবাড়ি মৌজার ৩৫৪ নম্বর দাগে বন বিভাগের কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে চার বিঘা জমি দখলে নিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করে তারা। খবর পেয়ে স্থানীয় বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাচীরটি গুঁড়িয়ে দিয়ে কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেন। কিন্তু কিছু দিন নীরব থাকার পর গত ঈদের আগে স্থানীয় আবুল কাশেমের নেতৃত্বে আবার ওই স্থানে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সিপি কোম্পানি ৩৫৪ নম্বর দাগে বন বিভাগের দুই একরের বেশি জমি দখল করে রেখেছে। এর আগেও প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে বন বিভাগ কিছুটা প্রাচীর ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু ঈদের আগে ভালুকা রেঞ্জের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে যোগসাজশ করেই স্থানীয় আবুল কাশেমের নেতৃত্বে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে যেখানে একটি ইট বসালে বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ ছাড়া কাজ করা সম্ভব হয় না, সেখানে সিপি কোম্পানি এত দীর্ঘ প্রাচীর কিভাবে নির্মাণ করে?
সিপি কোম্পানির মালিক মেহেদী হাসান ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে নেতৃত্বকারী আবুল কাশেমের মোবাইল নম্বরে এ বিষয়ে জানার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে হবিরবাড়ি বিট অফিসার আশরাফ উদ্দিন খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সিপি কোম্পানির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে রেঞ্জ অফিসারের সাথে কথা বলেন।
ভালুকা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, হবিরবাড়ি মৌজার ৩৫৪ নম্বর দাগে মোট জমি রয়েছে ৬৩ একর ৪০ শতাংশ। তার মাঝে বন বিভাগের রয়েছে, ৫৩ একর। বন বিভাগের জমি দখলে নিয়ে সিপি কোম্পানির বিরুদ্ধে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগে এক বছর আগেও মামলা দেয়া হয়েছিল। আবারো ওই স্থানে তারা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছে বলে জানতে পেরেছেন। দুই-এক দিনের মধ্যে প্রাচীর ভেঙে দিয়ে কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।



