মেহনতী মানুষের পদযাত্রায় মিছিলে মিছিলে মুখরিত ছিল পুরো নোয়াখালী। জুমার নামাজের পর থেকে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাস, পিকআপ, মাইক্রো ও সিএনজিযোগে সমাবেশস্থলের দিকে রওয়ানা হয়।
বিকেল গড়ানোর আগেই সমাবেশস্থল মাইজদী শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
সভাবেশস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে সড়কে অবস্থান নেন মানুষ। সবার মুখে একই কথা নিরেপক্ষ সরকার চাই। ‘দফা এক দাবি এক শেখ হাসিনার পদ ত্যাগ’, ‘চোর চোর ভোট চোর শেখ হাসিনা ভোট চোর’ ইত্যাদি শ্লোগান ছিল সবার মুখে।
জেলার নয়টি উপজেলার নেতাকর্মীরা নিজ নিজ পছন্দের নেতাদের পোস্টার, প্ল্যাকাট বহন করে। লোকে লোকারণ্য হয়ে জেলা শহর মাইজদী অচল হয়ে পড়ে। জেলার শহর থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সর্বত্র আলোচনার বিষয়বস্তু ছিলো পদযাত্রা।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে পদযাত্রা সমাবেশের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
মাইজদী সদরে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান, বেগমগঞ্জের বরকত উল্যা বুলু, চাটখিলের ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কোম্পানীগঞ্জের হাসনা মওদুদের সমর্থিতদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সবাই সরকারের পতনের শ্লোগানের পাশাপাশি নিজ এলাকার নেতাদের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষকদল, শ্রমিকদল, মৎসজীবীদল,তাঁতীদল ও জাসাসের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ উদ্যেগে আলাদা আলাদাভাবে পদযাত্রার অংশ গ্রহণ করে। যারা পদযাত্রায় যেতে পারেনি তারা ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়।
পদযাত্রা উপলক্ষে সকাল থেকে প্রধান প্রধান সড়কে পুলিশের ব্যাপক টহল ছিল। বৃহস্পতিবার সোনাইমুড়ীতে বিএনপির সমর্থিতদের ওপর হামলা করে মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের পরপরই মূলত পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় হয়ে উঠে।



