কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আলমগীর ও তার বোন কলেজছাত্রী নাদিরা হত্যা মামলায় আরো দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (১৬ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ। এর আগে শনিবার রাতে ওই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার রাতে গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন আরমান মিয়া (১৬) এবং অপরজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তার নাম জানানো হয়নি। এর আগে শুক্রবার রাতে গ্রেফতরা হওয়া আসামিরা হলেন নিহতদের চাচি ফরিদা খাতুন (৪১) ও মো: ইমরান (২৬)। গ্রেফতার হওয়া তিন পুরুষ আসামিই ফরিদা খাতুনের সন্তান এবং সবাই উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের উত্তর কুড়িমারা পূর্বপাড়ার বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিহতদের বাবা মো: শামসুদ্দীনের বাড়ির সামনে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের ডাকাডাকি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। তখন তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ করায় আসামিরা তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শামছুদ্দিনের বড় ছেলে মাহমুদ হাসান ওরফে আলমগীর, মেজ ছেলে হুমায়ুন কবীর, ছোট ছেলে সালমান, মেয়ে নাদিরা ও স্ত্রী শাহিদাকে গুরুতর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই আলমগীরের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হুমায়ুন কবীর, সালমান, নাদিরা ও শাহিদাকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই নাদিরার মৃত্যু হয়। আহত অন্যরা সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। ওই ঘটনায় নিহতদের বাবা সাতজনকে আসামি করে হোসেনপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন উত্তর কুড়িমারা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাদির (৪৪), মো: ইমরান (২৬), এমরান মিয়া (২৩), আরমান মিয়া (২২), মুসলিম মিয়া (৫০), মাসুম মিয়া (২২) ও ফরিদা ইয়াসমিন (৪১)।

বুধবার (১২ জুলাই) বিকেলে মো: আব্দুল কাদির বিরোধপূর্ণ জমিতে চারাগাছ রোপণ করেন। তখন তার বড় ভাই শামছুদ্দিন সেখান থেকে কয়েকটি গাছ কেটে ফেলায় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পর দিন সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে আবারো চারা রোপণ করতে গেলে আসামিরা দেখে যে আগের দিনের লাগালো চারাগুলোও তুলে ফেলা হয়েছে। তখন আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে শামছুদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে চারাগাছ উপড়ে ফেলায় গালিগালাজ করে এবং এক পর্যায়ে হতাহত হয়।