জামালপুরের যমুনার শাখ আলাই নদের ভাঙন আতঙ্কে সহস্রাধিক পরিবার। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে মেলান্দহের কুলিয়া ইউনিয়ন ও ইসলামপুর উপজেলার ওইসব পরিবার। বন্যা এলেই ভাঙন শুরু হয় এই নদের। আর বন্যা চলে গেলে হয়ে পড়ে পানিশূন্য। গত চার বছরের ভাঙনে নদের বুকে বিলীন হয়েছে দুই উপজেলার সহস্রাধিক ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি। এ বছরও বন্যার পানি আলাই নদে প্রবেশের পরপরই শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। ফলে চরম আতঙ্কে দুই উপজেলার আলাই পাড়ের মানুষেরা।
ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়া নামকস্থানে যমুনা থেকে আলাই নদের মোহনার সৃষ্টি। শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে যায় ওই মোহনা আর বন্যা মৌসুম শুরু হলেই শুরু হয় তীব্র স্রোত। আলাইয়ের বুকের খরস্রোত গ্রাস করে নেয় মানুষের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের কাচিহারা, পাঁচবাড়িয়া ও পচাবহলা থেকে শুরু মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের পচাবেহলা এলাকা থেকে সাদিপাটি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে নদীভাঙন।
প্রতি বছর মাঝে মধ্যে বাঁশের পাইলিং ও কিছু বালুর বস্তা ফেলা হলেও স্থায়ী কোনো নদী শাসন ব্যবস্থা না থাকায় ভাঙনের হুমকিতে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদরাসা, মসজিদ, রাস্তা ঘাট ও বসতবাড়িসহ ফসলি জমি। এমতাবস্থায় দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের।
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সেলিম মিঞা বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পাউবোকে জানানো হবে।
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ আলী (ভার) জানান, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষক্ষ ভালো বলতে পারবেন।
জামালপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই নদীতে ভাঙন প্রতিরোধে ইতোপূর্বে ইসলামপুর অংশে বালুর বস্তায় ডান ড্রাম্পিং ও বাঁশ পাইলিংসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মেলান্দহ অংশের প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের অনুমতি হলেই ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন যদি জরুরি পরিস্থিতির পাউবোর প্রস্তুতি রয়েছে।



