কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ভাইবোনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মো: আব্দুল কাদির (৫১) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।
সোমবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিন্নাত আরা আক্তারের আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জোড়া খুনের মামলার প্রধান আসামি মো: আব্দুল কাদির হোসেনপুর উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের উত্তর কুড়িমারা গ্রামের মরহুম হোসেন আলীর ছেলে।
শুক্রবার ও শনিবার ওই মামলার প্রধান আসামি মো: আব্দুল কাদিরের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন ও তাদের তিন ছেলে ইমরান (২৬), আরমান (১৯) ও এমরানকে (১৬) গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হোসেনপুর উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের উত্তর কুড়িমারা গ্রামে শামসুল ইসলাম ও তার আপন ছোটভাই আব্দুল কাদিরের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ ছিল। ১২ জুলাই বিকেলে বিরোধপূর্ণ জমিতে আব্দুল কাদির কয়েকটি চারাগাছ রোপন করেন। একইসাথে বড়ভাই শামসুল ইসলামের লাগানো কয়েকটি চারা কেটে ফেলেন। এসব নিয়ে তখন দু’পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়।
পরদিন ১৩ জুলাই ভোরে বাকি চারা লাগাতে গিয়ে আব্দুল কাদির দেখেন, তার আগের লাগানো চারাগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শামসুল ইসলামের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। হামলায় মাহমুদুল হাসান আলমগীর (৩০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত ছোটবোন নাদিরা আক্তার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
এছাড়া হামলায় নিহতদের দুই ভাই হুমায়ুন কবির ও সালমান এবং মা শাহিদা আক্তার ও বাবা শামসুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় নিহতদের বাবা শামসুল ইসলাম হোসেনপুর থানায় তার ছোট ভাই আবদুল কাদিরসহ মোট সাতজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।



