খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে শহরের শাপলাচত্বর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ।
মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টায় শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যকার সংঘর্ষ দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
সংঘর্ষে খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আরিফুর রহমান ও এসআই মামুনসহ তিন পুলিশ, সাংবাদিক ও উভয়পক্ষের দেড়শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পরস্পরকে দায়ি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সোয়া ১০টার দিকে শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থিত খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির অফিসের সামনে থেকে সংঘর্ষের শুরু হয়। এরপর পুরো শহরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষ বাঁশ-লাঠি ও লোহার রড ব্যবহার করে। পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শহরে যানবাহন চলাচল ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে খাগড়াছড়ি পৌরসভার সামনে মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়। এতে জেলা বিএনপির সমবায় সম্পাদক মো: হোসেন বাবুসহ ৩০-৪০ জন এবং জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক নুরুল আজম, মো: আলমাছ, ক্যজরী মারমাসহ ৮০-৯০ জন আহত হয়েছেন। আহত কয়েকজনকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা পদযাত্রায় অংশ নিতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রস্তুনি নেয়ার সময় আওয়ামী লীগের লোকজন বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এতে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
অপর দিকে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম ইসমাইল হোসেন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, সরকারের উন্নয়ন বিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিএনপি খাগড়াছড়ি শহরে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তারা আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা চালিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করেছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, উন্নয়ন শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আসার পথে বিএনপির ক্যাডাররা আওয়ামী নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় খাগড়াছড়ি পৌরসভাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো: আরিফুর রহমান ও সদর থানার দু’জন এসআইসহ অন্য পুলিশ ও সাংবাদিক আহত হন।



