প্রেমের টানে প্রায় আড়াই হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে পাবনার সুজানগরে ছুটে এসেছেন মালয়েশিয়ান তরুণী নূর শাহীদা। গত রোববার (১৬ জুলাই) এক মাসের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন তিনি। পরদিন তাকে নিজের গ্রামের বাড়িতে তাকে নিয়ে আসেন প্রেমিক রায়হান মণ্ডল।

এদিকে মালয়েশিয়ান তরুণী আসার খবর তারাবাড়িয়া নতুনপাড়াসহ আশপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ।

প্রেমিক রায়হান মণ্ডল পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের তারাবাড়িয়া নতুনপাড়া গ্রামের মো: সামাদ মণ্ডলের ছেলে। আর নূর শাহীদা মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর শহরের মোহাম্মদ চিমার উদ্দিনের মেয়ে।

কিভাবে পরিচয় হলো এ জুটির তা জানালেন রায়হান মণ্ডল। বলেন, সাত বছর আগে আমি মালয়েশিয়া যাই। সেখানে থাকার সুবাদে শাহীদার সাথে পরিচয় হয়। পরে পরিচয় থেকে ভালোবাসা। আমাদের দীর্ঘ তিন বছরের সম্পর্ক। বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে এসেসি। পরবর্তীতে দেশে আসার পর সোমবার আমার গ্রামের বাড়িতে দুই পরিবারের সম্মতিতে এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই।

তিনি জানান, কিছুদিন পর দু’জনই আবার মালয়েশিয়া যাবেন।

স্থানীয় সাতবাড়ীয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেত বাচ্চু জানান, প্রেম মানে না শাসন-বারণ। প্রেমানুভূতির নেই কোনো সীমানা। সাত সাগর তের নদী পেরিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনেই যেন সার্থকতা। এবারে ওই তালিকায় নাম লেখালেন নূর শাহীদা।

ভাঙা ভাঙা বাংলায় নূর শাহীদা বলেন, তিনি (রায়হান) আমাকে ভালোবাসে আমিও তাকে ভালোবাসি। বাংলাদেশে এসে আমি আমার পরিবার এবং তার পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেছি। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি।

তিনি আরো বলেন, এখনাকার সবাই ভালো ও আন্তরিক। তার বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য ভাই এবং বোনেরাও আমাকে আপন করে নিয়েছে। তারা যেন সুখী হতে পারে এজন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

রায়হানের বাবা সামাদ মণ্ডল বলেন, আমার ছেলের স্ত্রী ভালো মনের মানুষ। আমাদের পরিবার ও আগত মানুষদের সাথে সহজেই মিশে গেছে।

এ বিষয়ে সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, এটা আমার উপজেলার ঘটনা। লোকমুখে শুনেছি। তবে সরাসরি দেখা হয়নি।