জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম বাহাদুর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতারকৃত চাঁদনী ও তার মা মমতা বেগমসহ তিনজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানা পুলিশ। গতকাল শনিবার রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আক্তারুজ্জামান নিশ্চিত করেন। সেই সাথে কিলার নয়নসহ তার অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই চাঞ্চল্যকর সালাম হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। মৃত্যুর আগে তাকে কথিত বান্ধবী চাঁদনী ও তার সহযোগীরা নির্মম নির্যাতন চালায়। এ ঘটনার মূল হোতা মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা বড়পাড়া গ্রামের মৃত ঈদুর ছেলে আকাশ আহাম্মেদ নয়ন (৪৫)। সে সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমানের আশীর্বাদপুষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা বলে স্থানীয়রা জানান। সূত্র জানায়, গত ১৫ জুলাই বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা গ্রামে চাঁদনীর বাড়িতে সালাম বাহাদুরকে আটকিয়ে চালানো হয় নির্যাতন। চাঁদনীর পৈতৃক নিবাস বরিশালে। প্রায় চার বছর আগে এখানে জমি কিনে বাড়ি করেন। থাকতেন মা, বাবা ও ভাইবোন নিয়ে। এরই মধ্যে একাধিক বিয়ে ছাড়াও বিভিন্ন পুরুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা-পয়সা। আর এসব অপকর্মের শেল্টার দিয়ে ভাগ নিতেন আকাশ আহাম্মেদ নয়ন। সূত্র আরো জানায়, জেপি নেতা সালাম হত্যাকাণ্ডের আগে চাদনী টোপ দিয়ে তাকে গাজিন্দা গ্রামে এনে ঘরের ভেতরে আটক করেন। তার সাথে নয়ন ও তার সহযোগী হজা ডাকাত, সুলতান, শরিফ, জসিম, রুবেল ও পিন্টু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে দফায় দফায় নির্যাতন চালায়। সালামের কাছ থেকে নেয়া হয় সাত লাখ টাকার চেক ও সাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর। এর মধ্যে বাস্তা বাসস্ট্যান্ডের এক পল্লীচিকিৎসক দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাও করানো হয়। এরপর তার হাত ভেঙে দেয় তারা। টানা নির্যাতনের ফলে সালাম আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন তারা। চাদনীসহ আরো দুইজন আহত সালামকে নিয়ে প্রাইভেট কারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিলে পথেই মৃত্যু হয় তার। একপর্যায়ে চাঁদনী ও তার সহযোগীরা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। নিহতের ছোট ভাই আব্দুল করিম খলিফা বাদি হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাত আসামি করে হত্যামামলা করেন। নিহত সালাম বাহাদুরের বাড়ি পিরোজপুরের ইন্দুরকান্দি গ্রামে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডির ২৭ নাম্বার রোডের ৩৫/এ বাসায় সপরিবারে বসবাস করতেন। রাজনীতির পাশাপাশি ঠিকাদারি ও গার্মেন্ট এক্সেসোরিজ ব্যবসা করতেন তিনি।

গ্রামবাসীদের দাবি- ইতঃপূর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তার স্বামী ডা: মঈন আহম্মেদকে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করে নয়ন ও তার সহযোগীরা। ডা: মঈন থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি। এ ছাড়াও তার ধারাবাহিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া ছিলেন প্রতিবেশী জাহিদুল ইসলাম ছাহিমের পরিবার। এর পর থেকেই নয়নের অপকর্মের ধারাবাহিকতা বেড়েই চলছে। ধল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, নয়নকে উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক পদ দেয়ার কথা শুনে ইতঃপূর্বে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা বর্জন করেছি। সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুর রহমান শহীদ বলেন, উপজেলা কমিটিতে খসড়া তালিকায় তার নাম থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় নেই।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ বেগমের কাছে নয়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুদে বার্তায় জানান, ‘আমিতো জানি ধল্লার কিছু নামীদামি সাংবাদিক এদেরকে দিয়ে জমিদখল, বিদেশ ফেরৎসহ অন্য এলাকা থেকে কোনো লোক এলে চাঁদাবাজি করিয়ে ভাগ করে নেয়াটাই এখন তাদের প্রধান আয়ের উৎস।’