কাপ্তাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমানের মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাঙামাটি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মীর আবু তৌহিদ, বিপিএম (বার)।

মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) দুপুরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির জাহাঙ্গীর ছাত্রাবাস ও ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর আবাসিক ছাত্র ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন।

এসময় তাকে জানানো হয়, সাদিক সানসেটে বসে নিম গাছের ডাল কেটে মেসওয়াক বানাচ্ছিলেন। এসময় চাকুতে তার হাতের আঙ্গুল কেটে যায় এবং রক্তক্ষরণ দেখে মাথা ঘুরিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন সাদিক।

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার ছাত্রাবাসের গ্রিলবিহীন জানালা দিয়ে প্রায় দেড় ফিটের সানসেটে ছাত্রদের ঝুঁকিপূর্ণ অবাদ বিচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আর যেন কোনো মেধা ঝরে না যায় এবং আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয় তার জন্য অবিলম্বে ছাত্রাবাসগুলোর জানালায় গ্রিল লাগিয়ে অবাদ সানসেট ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।’

তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সাদিকের মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে।’

র‌্যাগিংয়ের নামে ছাত্র হয়রানি ও নির্যাতন প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ব্যবস্থাগ্রহণ করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তারা অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন ছাত্রকে অন্যত্র বদলি ও বহিষ্কার করেছে।’

তবে এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পরিদর্শনকালে তার সাথে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন হাওলাদার, সাদিক হত্যা মামলার তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তা এএসপি (কাপ্তাই সার্কেল) রওশন আরা রব, কাপ্তাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো: জসিম উদ্দিন, মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা কাপ্তাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: নূরে আলমসহ থানার অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের ৫৫তম ব্যাচের ৫ম সেমিস্টারের ছাত্র শেখ সাদিকুর রহমান ছাত্রাবাসের দোতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে আইসিউতে থাকা অবস্থায় গত ১৯ জুলাই সকালে মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাদিকের বড় ভাই মাহবুবুর রহমান সোমবার কাপ্তাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।