বরিশাল নগরীর বান্দরোডের দুই পাশে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) শতাধিক শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ঠিকাদারদের কাছ থেকে দরপত্র গ্রহণ করেছে। দুই-একদিনের মধ্যেই ১২৯টি গাছ কেটে ফেলা হতে পারে। এ বিষয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল পাউবোর অধীনস্থ সাগরদী কলোনি ও চাঁদমারী ভিআইপি কলোনিতে থাকা বিশাল আকৃতির ১২৯টি গাছ নিলামে বিক্রির জন্য চলতি বছরের ২২ জুন নিলাম দরপত্র আহ্বান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিলাম দরপত্র গ্রহণও করা হয়েছে। ৪০টির ওপর দরপত্র বিক্রি করা হলেও নিলামে অংশগ্রহণ করেছে মাত্র চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তাদের মধ্যে আরিফ নামের এক ব্যক্তি নির্ধারিত ১৭ লাখ টাকার অনুকূলে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্য হাকিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এগিয়ে আছেন। নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ কর্তন বা অপসারণে নিলাম দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নিলামে দুটি লটে ১২৯টি গাছ বিক্রি করা হবে।
নিলাম দরপত্রে এমনটি দাবি করা হলেও সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতর সংলগ্ন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের পেছনে ২-৩টি গাছ বন্যায় ভেঙে গেছে অথবা হেলে পড়েছে। তবে নিলামে বিক্রির জন্য রঙ দিয়ে নম্বর লিখে চিহ্নিত করা গাছগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ভিআইপি কলোনির বাসিন্দা ও কর্মচারীদের অভিযোগ, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে ১২৯টি গাছ বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কেননা গাছগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে লাগানো। এ গাছগুলো পাউবোর দুটি কলোনিকে ছায়া দিচ্ছে, পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করছে। অনেকে বলছেন, নতুন করে ১০০ গাছ লাগালেও এই শতবর্ষী গাছের ক্ষতিপূরণ করতে পারবে না। পুরনো গাছগুলো কেটে ফেললে কলোনি দুটি জলাভূমিতে পরিণত হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরিশালের অন্যতম সংগঠক রফিকুল আলম বলেন, চাইলেই গাছ কাটার সুযোগ নেই। তার ওপর সেটা যদি হয় সরকারি সম্পত্তি। তবে কোনো গাছ ঝড়ে পড়ে গেলে, ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা মরে যাওয়ার উপক্রম হলে শুধু সেই গাছগুলোই কেটে ফেলা যেতে পারে। এর বাইরে কোনোভাবেই কোনো গাছ কাটা যাবে না।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসাইন বলেন, যে গাছগুলো নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে, সেগুলো ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত। মানুষের মতো গাছেরও বেঁচে থাকার একটি নির্ধারিত সময় আছে। যেই গাছগুলো কাটা হচ্ছে সেগুলো পূর্ণবয়স্ক। এখন মরে যাচ্ছে। তা ছাড়া অনেক গাছের ডালপালা ঝড়ে ভেঙে গেছে। এ জন্য সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বন বিভাগের অনুমতি রয়েছে। বন বিভাগ আমাদের শর্ত দিয়েছে একটি গাছ কাটলে দুটি লাগাতে হবে। আমরা সেই শর্ত মেনেই বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি।
বরিশালে কেটে ফেলা হচ্ছে পাউবোর শতবর্ষী শতাধিক গাছ
বরিশাল নগরীর বান্দরোডের দুই পাশে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) শতাধিক শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ঠিকাদারদের কাছ...



