ময়মনসিংহের ভালুকা পৌর শহরের আনাচে-কানাচে এমনকি বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের পাশে স্থায়ীভাবে গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। আর সেখান থেকে দিন-রাত সার্বক্ষণিক পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। পাশাপাশি ময়লার স্তূূপগুলো এখন মশা উৎপাদনের উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এতে পৌর এলাকায় মশার উপদ্রব ভয়ানক হারে বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। গত সপ্তাহে সাতজন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ভালুকা পৌরসভাটি বেশ কয়েক বছর আগে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়। শিল্পায়নের ফলে এ পৌরসভায় বর্তমানে লোকসংখ্যা দুই লক্ষাধিক। কিন্তু নাগরিক সুবিধা রয়েছে আগের মতোই। প্রায় প্রতিটি সড়কই চলাচলের অযোগ্য, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। বিল্ডিং কোড না মেনে সড়কের ওপরই যার যেভাবে ইচ্ছে নির্মাণ করছেন ছোট বড় ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন। বিভিন্ন স্থানে ডোবা নালাগুলো সারা বছরই ভরে থাকে আবর্জনা ও কচুরীপানায়। বিশেষ করে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড ভান্ডাব এলাকায় ভালুকা সরকারি কলেজের উত্তরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে স্থায়ীভাবে গড়ে উঠেছে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়। যা থেকে মশা উৎপাদনসহ ছড়াচ্ছে বিভিন্ন রোগবালাই। তা ছাড়া দুর্গন্ধে নাকে কাপড় দিয়ে পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বার বার অভিযোগ দেয়ার পরও পৌর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি মশা নিধনের জন্য পৌরসভায় উন্নতমানের একাধিক ফগার মেশিন থাকলেও তা মাঝে মাঝে ব্যবহার করা হয় শুধু লোক দেখানোর জন্য। এ কারণে পৌর এলাকায় মশার উপদ্রব দিন দিনই বাড়ছে। আর সেই সাথে জনসাধারণের মাঝে বাড়ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌর এলাকার একাধিক নাগরিক জানান, পৌরসভার অধিকাংশ সড়কই খানাখন্দে একাকার। ড্রেনেজ ব্যবস্থা তেমন নেই বললেই চলে। যে দু’চারটি আছে তা খুবই নোংরা অবস্থায় পড়ে আছে। তা ছাড়া বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখায় মশা উৎপাদনের কারখানাসহ দুর্গন্ধে চলা দায় হয়ে পড়েছে। এমনকি এসব ময়লার কারণে দিনে বা রাতে মশার কামড়ে বাসাবাড়িতে বাস করা দুষ্কর হয়ে উঠেছে। এমনকি ডেঙ্গু আতঙ্কে রয়েছেন পৌরবাসী।
ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: হাসানুল হোসেন জানান, ভালুকায় গত সপ্তাহে সাতজনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ যথাযথ পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সারা দেশেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মারাত্মকভাবে বাড়লেও ভালুকা সে হিসেবে অনেকটাই ভালো।
ভালুকা পৌর মেয়র ডা: একেএম মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ূম বলেন, মশা নিধনে ইতোমধ্যেই মাইকিং করে দু’টি ফগার মেশিন দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় স্প্রে করা হয়েছে। তা ছাড়া ড্রেনগুলোও পরিষ্কার করা হচ্ছে।