যশোরের চৌগাছায় গরুর ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ মহামারী আকার ধারণ করেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারি ও কৃষকেরা। এ রোগকে আঞ্চলিক ভাষায় পক্স বলা হয়। উপজেলার ফুলসারা, সিংহঝুলী, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, হাকিমপুর, জগদিশপুর, পাতিবিলা, নারায়ণপুর, সুখপুকুরিয়া, স্বরূপদাহ ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গরুর এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসায় এখনো পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। তবে আক্রান্ত হওয়ার আগে কোনো খামারি এন্টি লাম্পি স্কিন ভ্যাকসিন ব্যবহার করলে এ রোগ আর হবে না।
পল্লী পশু চিকিৎসক হাসানুর রহমান জানান, এ রোগ সারতে যারা কবিরাজি চিকিৎসার পাশাপাশি নিম নিশিন্দার পাতা জড়িয়ে ভালো করার চেষ্টা করছেন তারা ভুল করছেন। আক্রান্ত গরু প্রাণিস¤পদ অফিসের পরামর্শে চিকিৎসা করানো উচিত। দ্রুত চিকিৎসা না করালে আক্রান্ত গরু-বাছুরের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।
উপজেলার বহিলাপোতা গ্রামের খামার মালিক দিপ্ত ঘোষ জানান, তার একটি গাভী ও একটি বাছুর লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়েছে। বাছুরটি প্রায় ২০ দিন ধরে আক্রান্ত হয়েছে। ডাক্তারি চিকিৎসা নিয়েও কোনো কাজ হয়নি। গাভীটিও ১০ দিন ধরে আক্রান্ত হয়ে রয়েছে। বাছুরটির হাঁটু ফুলে এখন রক্ত ঝরা শুরু হয়েছে। ওষুধে কাজ না হওয়ায় এখন কবিরাজি চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গরু দু’টি খুবই দুর্বল হয়ে গেছে।
উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামের কবির হোসেন বলেন, আক্রান্ত গরুকে ঝাড়ফুঁকের পাশাপাশি নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে রস খাওয়ানো হচ্ছে। অনেকে আক্রান্ত গরুর গায়ে নিমপাতাও বেঁধে রাখছেন।
পল্লী পশু চিকিৎসক হাজরাখানা গ্রামের আসাদ হোসেন বলেন, গরুর লাম্পি স্কিন রোধে চৌগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য হাট-বাজারে মাইকিংসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ রোগ রোধে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
পৌর এলাকার পল্লী প্রাণী চিকিৎসক পিন্টু রেজা জানান, পৌর এলাকার বাকপাড়া, বিশ্বাসপাড়া, ইছাপুর বেড়বাড়ী, বেলেমাঠ ও তারনিবাশসহ বিভিন্ন এলাকায় গরু লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি সোমবার ৮-১০টি বাড়িতে গিয়ে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা দিয়েছেন। প্রতিদিনই এভাবে চিকিৎসা চলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আনোয়ারুল করিম বলেন, লাম্পি স্কিন জাতীয় রোগ মশা-মাছি থেকে ছড়ায়। এ রোগের এখন পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। আক্রান্ত গরু ভালো হতে অনেক সময় লাগে। সাধারণ চিকিৎসা দিয়েই আক্রান্ত গরু ভালো করা হচ্ছে। দ্রুত ডাক্তারি চিকিৎসা না নিলে আক্রান্ত বাছুরের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। যারা আক্রান্ত গরুর কবিরাজি চিকিৎসা করাচ্ছেন, তারা ভুল করছেন। প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শে চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হচ্ছে বলে তিনি জানান।