দেশকে শত্রুমুক্ত করতে জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন রায়গঞ্জের জয়সাগর দীঘির পাড়ের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান শেখ (৮৪)। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশকে পরাধীনতার কবল থেকে মুক্ত করে বাঙালিরা বিশ্ব দরবারে বীরের জাতি হিসেবে পরিচিতি পেলেও মতিউর রহমান শেখের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তার নেই কোনো ভিটেমাটি, থাকেন জয়সাগরের সরকারি খাস জমিতে ঘর তুলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা ও ঘরবাড়ি করে দিয়ে তাদের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন ঘটিয়েছেন। চিকিৎসা-যাতায়াতসহ নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কিন্তু একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ছাড়া এতসব সুযোগ সুবিধার কিছুই জুটেনি মুক্তিযোদ্ধা গাজী মতিয়ার রহমান শেখের ভাগ্যে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। সরকারি খাস জায়গায় তার বসতঘরটিরও জরাজীর্ণ অবস্থা। যেকোনো সময় ঘরটি ভেঙে পড়তে পারে। রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে স্ত্রীর-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন অতিকষ্টে। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ছাড়া সরকারি আর কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না তিনি। বৃদ্ধ বয়সে দুই ছেলের স্ত্রী ও নাতি-নাতনীদের নিয়ে দিন কাটছে অতিকষ্টে।

এলাকাবাসী জানান, ছোট বেলা থেকে মতিয়ার রহমান অন্যের বাড়িতে তার বাবার সাথে কাজ করতেন। ১৯৭১ সময় মুক্তিযুদ্ধের ডাক এলে ট্রেনিং নিতে চলে যান ভারতে। সেখান থেকে নওগাঁর মাজার এলাকায় এসে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন। জীবনবাজি রেখে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ছিনিয়ে আনেন মুক্তিযোদ্ধারা। সরেজমিন দেখা যায়, বাড়ির সামনে একটি মাদুরপাতায় নিশ্চুপ বসে আছেন তিনি। বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, আমি একজন লাল কার্ডধারী মুক্তিযোদ্ধা হয়েও ভূমিহীনের মতো বসবাস করছি। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বাউল গান গেয়ে জীবনযাপন করছি।
রায়গঞ্জ উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গাজী রেজাউল করিম তালুকদার বলেন, উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২০৯ জন। মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানকে একটা জায়গা ঠিক করতে বলেছি।
রায়গঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তৃপ্ত কর্ণা মণ্ডল বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের যদি কোনো জায়গা জমি না থাকে তাহলে তার নামে জমি বন্দোবস্ত করে বীর নিবাস তৈরি করে দেয়া হবে।