আষাঢ় মাস শেষ হয়ে শ্রাবণ মাসের অর্ধেক হলেও তবু মৌসুমী বৃষ্টির দেখা নেই সিরাজগঞ্জের রাায়গঞ্জে। মাঝে মাঝে সামান্য ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হলেও তা তেমন কোনো কাজে আসছে না কৃষকদের। ফলে খরায় পুড়ে আমন ক্ষেত শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, বিপাকে পড়েছে উপজেলার আমন চাষিরা।
এবার দীর্ঘ দিন অনাবৃষ্টির কারণে পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পানির অভাবে অনেক কৃষক আবাদ করতে পারছে না। কিছু জমিতে ধান রোপণ করলেও পানির অভাবে ক্ষেতের মাটি ফেটে ধানের চারা পুড়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে কৃষকের। আমন চাষিদের সেচ পাম্পের পানিই এখন একমাত্র ভরসা। এতে উপজেলার কৃষকদের আমন ধান চাষের খরচ গুণতে হচ্ছে দ্বিগুন।
সোমবার (৩১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, উজেলায় আমন ধান চাষে কৃষকের সেচের কারণে চলতি বছর বিঘা প্রতি অতিরিক্ত পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা খরচ হচ্ছে চাষিদের। আমন ধানের আবাদ বাদ দিয়ে অন্য ফসল চাষের চিন্তা করছে অনেকেই।
উপজেলার নলকা ইউনিয়নের আলম চাঁদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সোবাহান মাস্টার বলেন, এবার মৌসুমের শুরু থেকেই বৃষ্টির দেখা নেই। বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ধানক্ষেতে সেচ দেয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রচণ্ড খরায় জমিতে চারা রোপন করতে দেরি হচ্ছে। অনেকে আবার আমনের চারা রোপন করলেও তা পানির অভাবে মাটি ফেঁটে লাগানো চারা মরে যাচ্ছে।
উপজেলার দাদপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনের ছেলে আরিফুল ইসলাম জানান, ‘ছয় বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করার জন্য জমি প্রস্তুত করতে পারছি না পানির অভাবে। আমন ধান চাষের ভরা মৌসুম শুরু হলেও বৃষ্টির দেখা নেই। তাই সেচ দিয়ে আমন চাষ করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এ জন্য বাড়তি খরচ গুনতে হবে। এছাড়া সার ও কীটনাশক কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। ফলে আমন ফসলে লোকসান গুনতে হবে কৃষকদেরকে।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, চলতি মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় আমন চাষে কৃষকদের সেলো মেশিনের মাধ্যমে সম্পূরক সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে হবে। খরার কারণে তাপদাহ চলতে থাকলে আমন ধানের ফলন আশানুরূপ না হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এ বছর উপজেলায় ১৯ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষমাত্রা রয়েছে। এসব জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে মূলত সেচ মেশিনের পানি দিয়ে।



