পুলিশের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ নয় নেতাকর্মীকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে ইসলামপুর থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৪ আগস্ট) দুপুরে থানা পুলিশ জামালপুর আদালতে হাজির করলে সংশ্লিষ্ট বিচারক জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন জেলা বিএনপির ত্রাণ পুনর্বাসন-বিষয়ক সম্পাদক ও ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাঁধন, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা খোকন, জেলা ছাত্রদলের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মাহমুদুল হাসান, পৌর কৃষকদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহান শাহ, সদস্য মোকলেছ, রাসেল এবং শ্রী জয়ন্ত।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ গ্রেফতার নেতাকর্মীদের নাশকতার পরিকল্পার পুরনো মামলার আসামি করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
তবে পুলিশ বলছেন গ্রেফতারকৃতরা মামলার এজাহারভূক্ত আসামি না হলেও তারা মামলায় উল্লেখিত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিল।'
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব বলেন, 'বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশন রোডে আমার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নেতাকর্মী সাথে চা পান করতেছিলাম। হঠাৎ আচমকা একদল পুলিশ আমাদের ঘিরে ফেলে ।
এ সময় পুলিশ জানায়, ওসি সাহেব কথা বলতে আমাদেরকে থানায় নিয়ে যেতে বলেছেন। পরে পুলিশে পিকআপে উঠিয়ে আমাদের থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। আমাদের কারোর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।'
থানা হাজতে থাকাবস্থায় পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা খোকন বলেন, 'আমার নামে মামলা না থাকলেও পুরনো মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কিছুদিন আগেও মামলা ছাড়াই পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করছিল।'
পৌর কৃষকদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান বলেন, 'আমার নামে কোনো মামলা নেই। কিন্তু ডেকে এনে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করেছে।'
ইসলামপুর থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনে উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। যার নম্বর ২৪। ওই মামলায় বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম নবাব, যুবদল নেতা বাঁধন, সোহেল রানা খোকন, জেলা ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে তারা এজাহারভুক্ত আসামি নন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইসলামপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মাহমুদুল হাসান মোড়ল বলেন, 'এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও মামলায় উল্লেখিত ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সে কারণেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
১৪ ফেবু্রুয়ারি বিশেষ ক্ষমতা আইনে এসআই মাসউদুর রহমানের করা ১৩ নম্বর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে কৃষকদল নেতা মশিউর রহমান, ছাত্রদল নেতা শাহান শাহ, সদস্য মোখলেছুর রহমান, রাসেল এবং শ্রী জয়ন্ত কুমারকে।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'গ্রেফতারকৃতরা অজ্ঞাত আসামি হওয়ায় তাদের গ্রেফতারর করা হয়েছে।'
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ইসলামপুর আসনের সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, গ্রেফতার বিএনপির ওইসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা নেই। জামিন অযোগ্য পুরাতন গায়েবি মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কুনঠাসা করতেই নেতাকর্মীদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু আরো বলেন, 'বিএনপির আন্দোলন বন্ধের হীন উদ্দেশে নেতাকর্মীদের মাঝে এক ধরনের ভয়ভীতি সঞ্চার করতেই এ গ্রেফতার অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল এলাকায় অবস্থান করছে। মূলত তাকে খুশি করতেই মনগড়াভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে পুলিশ।'
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান বলেন, 'অযথা কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।'



